চীনের দুর্গম পাহাড় কেটে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় যেখানে ৩৬৫ কোটি টাকা, সেখানে সমতলের ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে খরচ দেখানো হয়েছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা! মেগা এই প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয়ের আড়ালে কেবল ভূমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণের নামেই শত শত কোটি টাকা লোপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
জানা যায়, গণপূর্ত সাভার সার্কেলের তৎকালীন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত ২৩২ কোটি টাকা সরাসরি লুট করেছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, এমন অসংখ্য ভুয়া অধিগ্রহণের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া মোট টাকার অঙ্ক হাজার কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
যেভাবে লুটপাট করেছে সিন্ডিকেট:
ঢাকা জেলা ডিসি অফিসের এল.এ শাখা ও সড়ক ভবনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে জালিয়াতির এক অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেন স্থাপনা পরিমাপক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান। মূল এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ২০ থেকে ৫০ ফুট দূরে থাকা সম্পূর্ণ অক্ষত ভবনকেও অধিগ্রহণের তালিকায় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বিল তোলা হয়েছে।
প্রকল্পটিতে অধিকাংশ জমি ও স্থাপনার প্রকৃত মূল্যের ৫ থেকে ১০ গুণ বাড়িয়ে ভ্যালুয়েশন করা হয়। এরপর ভুয়া কাগজপত্র ও স্ট্যাম্প তৈরি করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ৩ কোটি থেকে শুরু করে ২২ কোটি টাকার একাধিক বড় বিল মিজান ও তার সহযোগীরা (আশরাফুল, মোসলেহ উদ্দিন প্রমুখ) নিজেদের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে নেন। আবার কোথাও কোথাও মালিকদের বিল পাস করিয়ে দেওয়ার নামে আদায় করা হয় মোট টাকার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের কমিশন।
লুটের টাকায় সম্পদের পাহাড়:
সরকারি এই মেগা প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিয়ে মিজানুর রহমান গড়ে তুলেছেন বিশাল আবাসন ব্যবসা। ‘ডালাস ডেভেলপারস লিমিটেড’ ও ‘ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্স’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাভার ডিওএইচএস, মিরপুর, উত্তরা, কেরানীগঞ্জ ও আশুলিয়ায় তিনি নামে-বেনামে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, প্লট ও ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট গড়েছেন। বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে খোলা একাধিক হিসাবে শতকোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণও পাওয়া গেছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দফায় দফায় ব্যয় বাড়িয়ে এই হরিলুটের ঘটনা ঘটে। তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর মেগা এই দুর্নীতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে। জাতীয় সংসদে সেতুমন্ত্রীও জানিয়েছেন যে, প্রকল্পটির দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বর্তমানে অভিযুক্ত প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে সাভার থেকে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
সূত্র : বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন মানবজমিন