ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি নির্মাণকাজে উদ্ভূত জটিলতা দ্রুত সমাধান এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। সাভার, আশুলিয়া, বাইপাইল ও ইপিজেড এলাকার সাথে ঢাকার প্রবেশগম্যতা সহজ হওয়ার পাশাপাশি এটি সামগ্রিক যানজট নিরসনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সাথে সংযোগের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে এটি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। তাই কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
সভায় নির্মাণাধীন এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সাইনবোর্ড এবং উন্নত নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি, প্রকল্পের অবশিষ্ট অংশের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত করা এবং পাইপলাইন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগের আন্ডারগ্রাউন্ড ইউটিলিটি লাইন দ্রুত স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়।
কাজের মান ও গতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে নিয়মিত বিরতিতে প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি, কনসালট্যান্ট এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ সাইট ভিজিট ও মাসিক সমন্বয় সভা করার পরামর্শ দেওয়া হয় সভায়।
পর্যালোচনা সভায় সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প পরামর্শক এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।