যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আশার আলো, ধ্বংসস্তূপের মাঝে ৫৪ দম্পতির গণবিয়ে

আগের সংবাদ

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে প্রধান উপদেষ্টা

পরের সংবাদ

আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

হাসান ভুঁইয়া

প্রকাশিত :৮:১৩ অপরাহ্ণ, ০৩/১২/২৫

ঢাকার আশুলিয়ায় বেসরকারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষরণের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ‌’আশুলিয়া এক্সপ্রেস’কে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান।

এর আগে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আশুলিয়ার ফুলেরটেক ও বাইশমাইল সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগের গতকাল ২ ডিসেম্বর আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার ভূইয়া (২২), তাজুল ইসলাম তাজ (২০), শ্রাবন সাহা উৎস (২১) ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অন্তু দেওয়ান (২৪)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল সকাল ১১ টার দিকে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায়। পথিমধ্যে কোমল পানীয় ‘মজোর’ সাথে চেতনানাশক ঔষুধ খাওয়ালে কিছুক্ষণ অচেতন হয়ে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ওই বিকেল ৫ টার দিকে জ্ঞান ফিরলে আসামিদের ফুলের টেকের ম্যাচে নিজেকে দেখেন ভুক্তভোগী এবং বুঝতে পারেন তার সাথে জোর পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেছে। পরে ডাকচিৎকার শুরু করলে আসামিরা ধারণকৃত ভিডিও ও অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ভাইরাল করে দেওয়াসহ এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার পর থেকে জিম্মি করে একাধিক ধাপে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে একাধিক ধাপে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

গত ৪ নভেম্বর তাকে আবারও শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসামিরা। পরে গত ৬ নভেম্বর ৪ নং আসামির নির্দেশনায় হুমকি ও অন্তু দেওয়ানের সাথে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাদের প্রস্তাবে রাজী না হলে ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ এলোপাথারী চড় থাপ্পর দিয়ে টেনেহিঁচড়ে ৪নং আসামির কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আবারও বোতল থাকা বিষাক্ত নেশাজাতীয় পানীয় ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক খেতে বাধ্য করে। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় কোনমতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে গুরুত্বর অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকরা গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেলে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়। এঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে আসামিরা আরও চড়াও হন।

চিকিৎসা শেষে আবার গত ২৬ নভেম্বর দুপুর ১২ টার দিতে গণবিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে আইন বিভাগের একাডেমিক কক্ষে গেলে আসামিরা সাথে সাথে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। পরে বিকেল ৩ টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরে গতকাল আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

এব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ১৭ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল তাদের আদালতে প্রেরন করা হবে।