ধামরাইয়ে তিন ইটভাটাকে জরিমানা

আগের সংবাদ

অধ্যক্ষর মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় শিশু ছাত্রীদের পিটিয়ে আহত করলো শিক্ষক

পরের সংবাদ

ভক্তদের মঙ্গল কামনায় বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে ঝুলছে নিতাই

নেছার উদ্দিন খান

প্রকাশিত :১২:২০ অপরাহ্ণ, ১৬/০৪/২২

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম একটি উৎসব চড়ক পূজা। এই পূজায় পিঠ জুড়ে বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে ঝুলে চারদিক প্রদক্ষিণ করেন নিতাই চন্দ্র সরকার। গত ৪০ বছর যাবৎ এই পূজা করে আসছেন তিনি। এই পূজা তিনি দুনিয়ার সকল মানুষের শান্তি কামনার জন্য করেন।

প্রতি পহেলা বৈশাখ আসলেই ঢাকার ধামরাইয়ের কান্দিরকুল গ্রামের বাসিন্দা নিতাই গ্রহণ করেন সন্ন্যাস। আর বৈশাখের এই প্রথম তিন দিন চলে দেল যাত্রা, শিব-পার্বতী নাচানো, বাইদানি নাচ, হাজরা, ধুপ নাচ ও চরক পূজা (বড়শি পিঠে গেথে শূণ্য ঘোড়া)।

গতকাল পহেলা বৈশাখ বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) এই চরক পূজা হওয়ার কথা থাকলেও ধামরাইয়ে একদিন পরে আয়োজন হয়। আজ শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টা থেকে ধামরাইয়ের যাত্রাবাড়ী মাঠে চড়কগাছ পূজা আয়োজন করা হয়েছে৷

এই পূজার আয়োজনে গিয়ে দেখা গেছে, নিতাই আসার আগেই চরকে গাছটিকে জড়িয়ে ধরে নৈকট্য লাভের আশা করছেন আগত ভক্তরা। এ সময় গাছটিকে চুমুও খেতে দেখা যায় তাদেরকে। একটু পরেই নিতাই সেখানে এসে বরশির সাথে সুতো লাগিয়ে ঝুলতে শুরু করে। এর আগে তিনটি বড়বড় লোহার বরশি তিনি তার পিঠে গেথে নেন।
পরে শূন্যে উড়ে প্রায় ২১ পাক ঘুরেন তিনি। সেই সাথে তার শিশু নাতী-নাতনিকে নিয়েও শূণ্যে ঘুড়েন৷ তার এই চরক ঘোড়াকে কেন্দ্র করে মাঠটিতে একটি মেলা বেসেছে। আর বরশি দিয়ে শূন্যে ঘোড়া দৃশ্যটি দেখতে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি চরক থেকে নেমে যান৷

নিতাই চন্দ্র সরকার চরকিতে উঠার আগে বলেন, আমার চার পুরুষ এই আচার পালন করে এসেছে। হিসাবে বলা যায় প্রায় ২’শ বছর আমরা এই পূজা করে আসছি। আমার বাবা করতে পারেননি। দাদুর পরে আমি ১২ বছর বয়স থেকে আবার শুরু করি। ৪০ বছর ধরে টানা আমি এই পূজা করে আসছি। শুধু এটা বলতে পারি, এই পূজার সময়ে আমি এক অন্য আধ্যাত্মিক জগতে চলে যাই। ঈশ্বরের জন্যে নিজেকে একদম সপে দেই। একারণে কোন ব্যথা বা কোন অনুভূতিই হয় না। আমি আলাদা এক মানুষ হয়ে যাই।

এই পূজা কিভাবে করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চড়ক পূজাকে সামনে রেখে সন্ন্যাস গ্রহণের পরে বাড়িতে খাওয়া বন্ধ করে দেই। ঘুরে ফিরে মানুষ যা দেয় তাই খাই। সেটাও শুধু নিরামিষ। সন্ন্যাসীরা (সহযোগীরা) নাচেন। ভক্তরা নিজের সামর্থ্য মতো সিধা (চাল, অর্থ দান) দেয়। এছাড়া সারাবছর আমি কিছু কবিরাজি চিকিৎসা করি। আজ আমার সাথে সবাই আমিষ খাবে। পূজা শেষ হলে।

তিনি বলেন, যখন থেকে পূজার সময় শুরু হয়। হিন্দু মুসলিম সবাই সহযোগিতা করে। উৎসাহ দেয়। চড়ক গাছে ঘোরানোর দৃশ্য দেখতে আসে হাজার হাজার মানুষ। তখন বিষয়টা যতটা না পূজার আচার থাকে, তারচেয়ে বেশি হয় উৎসব। সেখানে হিন্দু মুসলিম সবাই আসে।

নিতাই সরকারের মেয়ে নির্জনা সরকার বলেন, এই পূজাটি শত বছর আগের পূজা। আমার বাপ দাদারা শত বছর ধরে এই পূজার আয়োজন করে আসচ্ছেন। এখন আমার বাবা এই পূজার আয়োজন করেছেন। পূজাকে ঘিরেই এখানে মেলা হয়। আমার বাবা শূণ্যে উড়ার সময় আমার ছেলে শুভ্র নিল সরকার ও ভাতিজা কৌশিক সরকারকে নিয়ে উড়ে।