সাভার মুক্ত দিবসে শহিদ টিটোর সমাদিতে শ্রদ্ধা

আগের সংবাদ

পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র পেলেন ৫০ তরুণ-তরুণী

পরের সংবাদ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

নেছার উদ্দিন খান

প্রকাশিত :১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, ১৫/১২/২১

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আত্মত্যাগী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সম্মান জানাতে প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতীয় স্মৃতিসৌধে গত কয়েকদিন নিয়মিত চলছে তিন বাহিনীর সদস্যদের কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি ও মোটরসাইকেল মহড়া।ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হয়েছে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা। রাখা হয়েছে রঙিন ফুলের গাছ।

গতবছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও বিজয়ের ৪৯তম ১৬ ডিসেম্বরে বৈশ্বিক মহামারী করোনা থাকায় স্মৃতিসৌধ শ্রদ্ধা জানাতে আসতে পারেনি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। তবে এবছর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ভারতের রাষ্ট্রপতিও স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন বলে জানা গেছে।

গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এবার ১৫ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন মুক্তিযুদ্ধকালীন বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতের রাষ্ট্রপ্রতি রামনাথ কোবিন্দ। সে কারণে এক মাস ধরেই পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতাসহ লাল-সবুজের চিত্র ধরে সৌধ চত্বরকে সাজানো হয়েছে। সুধু তাই নয় তার নিরাপত্তায় নজরদারী জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে সাভারের নবীনগরে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনের গিয়ে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া স্মৃতিসৌধ চত্বরে গিয়ে গত দুইদিন দেখা গেছে, স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটক ও দ্বিতীয় ফটকের সামনে সড়কের ডিভাইডারের রং করা হচ্ছে। ফটকগুলোর ভেতরে জীবাণু নাশক স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্মৃতিসৌধের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পরেছে ভিভিন্ন রংয়ের আলোকসজ্জার বাতি, গাছের নতুন টপ। আর পাইপের পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে এই প্রাঙ্গনের পুরো জায়গা। এছাড়া চার দিকে রয়েছে কয়েকশত সিসিটিভি ক্যামেরা।

ধোয়া মোছার কাজ শেষ করে রং দেওয়ার কাজ করছেন আলামিন সহ আরও কয়েকজন। তারা বাংলানিউজকে বলেন,পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিছন্ন করা হয়েছে। এখন রং দেওয়ার কাজও প্রায় শেষ। সেই সাথে আলোকসজ্জা লাগানোর কাজও। প্রতি বছর ১৬ই ডিসেম্বর ও ২৬ শে মার্চ আমরা ধুয়া-মোছা রং দেওয়াসহ ফুল গাছ লাগানোর কাজ করে থাকি। শেষ মুহূর্তের টুকি টাকি কাজ চলছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তার বিষয়ে পরিদর্শনে আসেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, নিরপত্তার জন্য এবার স্মৃতিসৌধ এবার স্মৃতিসৌধ এলাকার অর্ধশত পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের সাদা পোশাকেসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা রয়েছেন। ১ ডিসেম্বর থেকে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকায় সিকিউরিটি ডেপ্লয় করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিজয় উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

গণপূর্ত বিভাগের সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে প্রায় বিগত দুই মাস ধরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। ফুল দিয়ে সাজানো, লেক সংস্কার, সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ সব কাজ পুরোপুরি শেষ। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রস্তুত আছে। তবে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৫ ডিসেম্বর ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে আসবেন। আমরা আশা করছি ওই দিনই দুপুরে শহীদদের সম্মানে উনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। যেহেতু ১৬ ডিসেম্বর প্রস্তুতির সঙ্গে এ জন্য দুই দিন আগেই আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আর এ কারণে গত ১ ডিসেম্বর থেকেই পুরো সৌধ এলাকায় সিকিউরিটি ডেপ্লয় হয়েছে। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিজয় উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে কাজ করে যাচ্ছেন।