আশুলিয়ায় কারখানায় নারী শ্রমিকের মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

আগের সংবাদ

আশুলিয়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

নিহত শ্রমিকের সন্তানের শিক্ষার দায়িত্ব নিল ‘আগামী অ্যাপারেল’

হাসান ভুঁইয়া

প্রকাশিত :১:০৯ অপরাহ্ণ, ২১/১০/২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় ডেকো লিগ্যাসী গ্রুপের আগামী অ্যাপারেলস কারখানায় কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়া পোশাক শ্রমিক মোছা. মিশু আক্তার সুমির দুই সন্তানের লেখাপড়ার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডেকো গ্রুপ। সেই সাথে শ্রম আইন অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে তার প্রাপ্য যথাযথভাবে পরিশোধের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে এসব তথ্য জানান আগামী অ্যাপারেলস লি.-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সরদার মো. সালাউদ্দিন।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরদার মো. সালাউদ্দিন জানান, গত ১৬ অক্টোবর ডেকো লিগ্যাসী গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আগামী অ্যাপারেলসের কর্মী মোছা. মিশু আক্তার সুমি কারখানায় কর্মদিবসের শেষ প্রান্তে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল টিম প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে এবং পরে তার স্বামীর উপস্থিতিতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক মোছা. মিশু আক্তার সুমিকে মৃত ঘোষণা করেন। ডেকো লিগ্যাসী গ্রুপ তাদের এক সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।

তিনি আরও জানান, “ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ সুমি আক্তারের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে। সুমির মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁর দাফন-কাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেই সাথে ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহসহ পুলিশ প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‌“দুঃখজনকভাবে, সুমির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও যাচাইবিহীন বক্তব্য প্রচারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা মনে করি, এমন সংবেদনশীল ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে কোনো বক্তব্য বা তথ্য প্রচার অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবার, কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে; সেই সাথে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে।”

গত ৪০ বছর ধরে ডেকো লিগ্যাসী গ্রুপ মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। আমরা সবসময় মানবিক সম্পর্ককে সবার ওপরে স্থান দিই। এখন পর্যন্ত আমাদের খুব সুন্দর কর্মপরিবেশ রয়েছে।

সবশেষে তিনি জানান, দেশের শিল্প, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে অবদান রাখা একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেকো লিগ্যাসী গ্রুপ দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়। মিথ্যা তথ্য ও গুজবের কারণে কারখানার কর্মী ও কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। এতে কর্মপরিবেশ ও কারখানার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখা সুনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানটি গুজব ও ভুল তথ্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা আমরা আশা করি না।

এতে তিনি দেশের স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে ও পারস্পরিক শিল্প-সম্পর্কের স্বার্থে যাচাইবিহীন তথ্য প্রদান বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সহযোগিতা করার অনুরোধও জানান।

পরিশেষে তিনি, নিহত মিশু আক্তার সুমির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আবারও গভীর সমবেদনা জানান।

এই বিভাগের সর্বশেষ