সাভারের আশুলিয়ায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মদ্যপ অবস্থায় মাতলামি আর উদ্দাম নাচে মেতে ওঠার একটি নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মদ্যপ অবস্থায় তিনি এমন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষ সানোয়ার মাস্টার আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া মোল্লা মার্কেট এলাকার সালেহা ইদ্রিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হলুদ রঙের দেয়াল ঘেরা একটি কক্ষে স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় রয়েছেন প্রধান শিক্ষক সানোয়ার। তার সামনে টেবিলে রয়েছে একটি মদের বোতল। তার সাথে লুঙ্গি ও ফতুয়া পরিহিত বয়োজ্যেষ্ঠ অপর এক ব্যক্তিকে নিয়ে উদ্দাম অবস্থায় নাচানাচি করছেন তারা। তাঁর শারীরিক ভাষা ও আচরণে তিনি মদ্যপ ছিলেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের এমন অপেশাদার আচরণের ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় হতবাক এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ শিখবে, তাঁর এমন কর্মকাণ্ড চরম হতাশাজনক।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সানোয়ার মাস্টারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, এটা কে করছে আমি জানি না। ওই বাসায় মধ্যে একটা অফিস। ওইখানে আমি আর মুরুব্বি এমনি নাচতেছি। পরে দেখলাম যে কে জানি একটা বোতল সামনে দিয়ে ভিডিও করছে। আমি বলতেও পারবো না কোন জায়গা থেকে কি হইছে। এটা ছয় মাস আগের ঘটনা। মদ্যপ অবস্থায় এমন ঘটনা ঘটেছে কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করে বলেন মুরুব্বি আমার দাদা লাগে। আমারা শয়তানি করে নাচতে ছিলাম। কে জানি একটা বোতল সামনে দিয়ে ভিডিও করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয় আমি জানি না, আমি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এধরণের কাজ করে থাকলে আবশ্যই আমরা এটা খতিয়ে দেখবো। তদন্ত সাপেক্ষে ভিডিওটির সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।