তাজরীন ট্রাজেডির ১২ বছর আজ

আগের সংবাদ

আশুলিয়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার-২

পরের সংবাদ

তাজরীন ট্রাজেডির ১২ বছর: শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও বিচার দাবি

ইস্কান্দার হোসাইন রুদ্র

প্রকাশিত :১২:১২ অপরাহ্ণ, ২৪/১১/২৪

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর ঘটে যাওয়া তাজরীন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ড এখনও দেশের এক অন্যতম বৃহত্তম শ্রমিক বিপর্যয়ের ঘটনা হিসেবে স্মরণ করা হয়। ১২ বছর পরেও নিহত শ্রমিকদের পরিবার ও আহতদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন আসেনি, এবং তাদের অবর্ণনীয় কষ্ট এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আজ (২৪ নভেম্বর) তাজরীন ট্রাজেডির ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে অংশ নেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এসপি মোঃ সারোয়ার আলম, নিহতদের পরিবার, আহত শ্রমিকরা এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

২০১২ সালের তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে ১১৩ জন শ্রমিক নিহত হন, এবং পরে আরও ৪ জন মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসা এখনও প্রাপ্ত হয়নি। আহত শ্রমিকরা শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে এখনও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।

আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুরে অবস্থিত তাজরীন ফ্যাশনের ভবনটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে, পোড়া দাগ নিয়ে। আগুনের ঘটনায় আহত শ্রমিকরা আজও সেখানে বসবাস করছেন, ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, ১২ বছর আগে তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১৩ জন শ্রমিক নিহত হন, পরে আরও ৪ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রায় ২০০ শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কারখানায় তখন কর্মরত ছিলেন ৯৮৪ জন শ্রমিক, তাদের অধিকাংশই আজও শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

রেহেনা বেগম নামে একজন আহত শ্রমিক জানান, আমি আগুনের মধ্যে তিন তলা থেকে লাফ দিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম, যার ফলে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। আইএলও থেকে ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলাম, তবে তা যথেষ্ট ছিল না। চিকিৎসা করতে গিয়ে আমি যে টাকা পেয়েছি, তাও শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি কোন কাজ করতে পারি না। আমরা পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসা চাই।

নাজমা আক্তার নামে আরেক আহত শ্রমিক জানান, সরকার আমাদের জন্য নানা সময়ে আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি করছি দ্রুত আমাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা শুরু করা হোক।

বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বলেন, তাজরীন ট্রাজেডি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক দিন। নিহতদের পরিবার এবং আহত শ্রমিকদের কোনও কার্যকর ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন দেওয়া হয়নি। সরকারকে অবশ্যই তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে হবে এবং ভবনটির সংস্কার করে সেখানে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে। সেই সঙ্গে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময় একাধিকবার বিচার হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা কখনও বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা আশা করি বর্তমান সরকার এই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবে।

এসময়, শ্রমিক সংগঠনগুলো সরকারের কাছে দ্রুত পুনর্বাসন, সুচিকিৎসা এবং বিচার কার্যক্রম শুরুর দাবি জানান।

এই বিভাগের সর্বশেষ