সাভারের আশুলিয়ায় দুই কিশোরীকে অপহরণের ঘটনায় আব্দুর রশিদ (৫০) নামের এক অপহরণকারীকে আটক করেছে র্যাব-এর একটি আভিযানিক দল। সেই সাথে অপহৃত দুই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আটককৃত অপহরণকারীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানায় উপ পরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব সাহা।
এর আগে গতকাল রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর এলাকার সেনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে আধাঁঘন্টা পরে রাত ১১টারদিকে কুরগাঁও থেকে দু্ই অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত আব্দুর রশিদ (৫০) চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা থানার দর্শনা এলাকার মৃত শামসুর রাহমানের ছেলে। তিনি আশুলিয়া থানার কুরগাঁও পুরাতন পাড়া এলাকার মোতালেব মিয়ার বাড়ীতে ভাড়া থাকতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার বগাবাড়ী এলাকার একটি প্রিন্টিং কারখানায় চাকুরীরত দুই কিশোরী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টার দিকে অফিসের দুপুরে খাবারের সময় নবীনগর এলাকার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঘুড়তে যায়। তখন আটকৃত আব্দুর রশিদ তাদের পিছু নিয়ে বিভিন্ন কলাকৌশলে, লোভ-লালশা ও প্রলোভন দেখিয়ে কথা বলতে থাকে। কথাবার্তার এক পর্যায়ে বেশি বেতনে চাকুরির ব্যবস্থা করে দেবে বলে তার সাথে যাওয়ার জন্য ফুসলাতে থাকে। পরে দুই বান্ধবী তার ছলচাতুরী বুঝতে পেরে তার সাথে যেতে না চাইলে অসৎ উদ্দেশ্যে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বিকেল সাড়ে পাচটার দিকে তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাদেরকে আটকে রাখে। পরে অপহৃত এক কিশোরীর বাবা মেয়ে নিখোঁজের ব্যাপারে র্যাব- ৪ এর সিপিসি-২ এ একটি অভিযোগ দেন। র্যাব-৪ গতকাল রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আশুলিয়ার নবীনগর এলাকার সেনা শপিং কমপ্লেক্স থেকে অপহরণকারীকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুরগাঁও এলাকার আটককৃত আব্দুর রশিদের বর্তমান ঠিকানা থেকে অপহৃত দুই কিশোরীকে উদ্ধার করে র্যাব।
এ বিষয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানায় উপ পরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব সাহা বলেন, অপহরণকারীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই সাথে তাকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপহৃত দুই কিশোরীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যদিও তারা প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের শিকার হয়নি বলে জানিয়েছে।