আশুলিয়ায় গ্যাসের লরি বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা, আসামির তালিকায় নেই মালিকপক্ষের কেউই

আগের সংবাদ

আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন

হাসান ভুঁইয়া

প্রকাশিত :১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, ২৩/০৯/২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপে মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ীদের বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরন সহ ছাটাইকৃত শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপে ওই কারখানার সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মালিকপক্ষ ও সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারসহ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা শ্রমিকের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তারা আরও বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিক এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কারখানাগুলোতে নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন, ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জাম পরীক্ষা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিপজ্জনক উপকরণ অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের ঢাকা জেলার সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন কর্মসূচি উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির (NGWU) কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম সহ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি (NGWU) এবং টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকগণ।

এ মানববন্ধন থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা এবং দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত সহ ৬টি দাবি জানানো হয়।

দাবি গুলো হলো-

১. প্রীতি গ্রুপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

৩. দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিক এবং তাদের পরিবারকে আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

৪. আহত শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়ীত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

৫. দেশের সব পোশাক কারখানায় কার্যকর কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা
এই বিভাগের সর্বশেষ