আশুলিয়ায় তালাকের জেরে বহিরাগতদের নিয়ে সাবেক স্ত্রীর হামলা: ১০ লাখ টাকা লুট ও দোকান তালাবদ্ধের অভিযোগ

আগের সংবাদ

আশুলিয়ায় গ্যাসের লরি বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা, আসামির তালিকায় নেই মালিকপক্ষের কেউই

ইস্কান্দার হোসাইন রুদ্র

প্রকাশিত :৬:৪৮ অপরাহ্ণ, ২২/০৯/২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানায় ভয়াবহ গ্যাস লরি বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে অবহেলাজনিত হত্যার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তবে দায়ের করা এ মামলায় কারখানার মালিকপক্ষের কাউকে রাখা হয়নি, আসামি করা হয়েছে কেবল বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তালেব বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অপরিকল্পিতভাবে বিপজ্জনক অবস্থায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভিযোগ এনে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- প্রীতি গ্রুপের জিএম মো. সোহেল রানা, এজিএম মো. মহিউদ্দিন, ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হোসেন, কারখানার ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজীব হোসেন এবং দুই হেলপার মো. আল আমিন ও মো. এনামুল। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রীতি গ্রুপের সিইও পদে রয়েছেন রাজীব আহমেদ তালুকদার পিয়াল। তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাঁর মা পারভীন তালুকদার প্রীতি গ্রুপের ডিরেক্টর, যিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। কারখানার এমডি হিসেবে রয়েছেন রেজিন আহমেদ তালুকদার। তবে দায়ের করা এই মামলায় মালিকপক্ষের কারও নাম আসেনি।

এ ঘটনায় প্রীতি গ্রুপের এমডি রেজিন আহমেদ তালুকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, কোনো কারখানায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার কেবল বেতনভুক্ত সাধারণ কর্মচারীদের ওপর চাপানো যৌক্তিক নয়। যানবাহনের দুর্ঘটনা হলে যেমন মালিকের নামেও দায় আসে, তেমনি কারখানার অগ্নিকাণ্ড বা নিরাপত্তাজনিত গাফিলতির দায় মালিকপক্ষের ওপরও বর্তায়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে তাৎক্ষণিকভাবে যাদের সরাসরি দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে, আপাতত এজাহারে তাদের নামই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মালিকপক্ষের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে, পরবর্তীতে তদন্তে যাদেরই গাফিলতি বা সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, তাদের সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের ‘এস সূহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’এ দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় আটজনের মৃত্যুসহ অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও আহত হন।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা
এই বিভাগের সর্বশেষ