ঢাকার সাভারে নির্বাচনী প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠা নৌকা প্রতীকের সেই চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখিত পত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বিরুলিয়া ও বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রমনা থানার নির্বাচন অফসিার মো. রাকিবুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৃহস্পতিবার বিরুলিয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সংবাদ আসে গণমাধ্যমে।
এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত নির্বাচন পরিচালনাকারীদের ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।
তবে এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থী সুজনকে একাধিকবার ফোন ও এসএমএস করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিরুলিয়া ও বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা অফিসার মো. রাকিবুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে বিরুলিয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এঘটনায় শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টায় তার কাছে শোকজ পত্র পাঠানো হয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আজ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বশরীরে এসে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিলো। পরে আজ শনিবার দুপুরে তিনি এসে কারণ দর্শিয়ে লিখিত জমা দিয়েছেন। মূলত নোটিশে তিনি প্রথমবারের মতো ক্ষমা চেয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রথমবারের মতো তাকে ক্ষমা করা হয়েছে। একই সাথে পরবর্তীতে আচরণবিধি লঙ্ঘের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্খা নেয়ারও কথাও জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমরা সবধরণের ব্যবস্থা নিবো। আমরা সবার ক্ষেত্রেই জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর।
প্রসঙ্গত, গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মিরপুর-বিরুলিয়া সড়ক সহ বিভিন্ন সড়কে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও অটোরিকশাযোগে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন বিরুলিয়া ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী সািদুর রহমান সুজন। এসময় আচরণবিধি ভেঙে ব্যান্ডপার্টি দিয়েও প্রচারণা চালান তিনি। পরে তার বাড়িতে প্রায় দুই হাজার মানুষের ভূড়িভুজেরও আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
আগামী ৫ জানুয়ারী সাভার উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।