ধামরাই

বহিষ্কৃত’ সভাপতির কলমে বহিষ্কার ‘বিতর্কিত’ সহ-সভাপতি জাকির

আগের সংবাদ

চিরকুটে বিকাশ নম্বর রেখে টাকা দাবি: মিটার চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

ইস্কান্দার হোসাইন রুদ্র

প্রকাশিত :৪:২৪ অপরাহ্ণ, ০৩/১০/২৬

ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন কারখানার বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে চিরকুটে বিকাশ নম্বর রেখে অভিনব কায়দায় টাকা আদায়কারী সংঘবদ্ধ চোর চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ (আইপি)-১। এ সময় পুলিশের সিগনাল ভেঙে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুতবেগে পালানোর চেষ্টাকালে দুই আসামিসহ পুলিশের দুই সদস্য আহত হন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া (পিপিএম)।

এর আগে, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে আশুলিয়ার পলাশবাড়ি এলাকার ঘোড়াপীর মাজার সংলগ্ন রাস্তা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার পাথরাইল গ্রামের কাইয়ুম আলীর ছেলে মোঃ সবুজ মিয়া ওরফে মিটার সবুজ (২৫) এবং একই থানার রেহাই পুকুরিয়া গ্রামের লিটন মোল্লার ছেলে মারুফ মোল্লা (৩৫)।

পুলিশ জানায়, বিগত কয়েকমাস ধরে এই চক্রটি সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকার বিভিন্ন কারখানার মিটার চুরি করে আসছিল। তারা মিটার চুরি করে তা ঘটনাস্থলের আশেপাশেই সুকৌশলে লুকিয়ে রাখত। এরপর মিটারের স্থানে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুটে বিকাশ নম্বর রেখে যেত তারা। পরবর্তীতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে দরকষাকষির মাধ্যমে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়ে পুনরায় মিটার ফেরত দিত চক্রটি।

গত ৫ আগস্ট ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় অবস্থিত দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিঃ- এর কারখানার পল্লী বিদ্যুতের মিটার চুরির ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। এরপর মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে আশুলিয়ার পলাশবাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের সিগন্যাল পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুতবেগে পালানোর চেষ্টাকালে রাস্তায় পড়ে গিয়ে দুই আসামি আহত হয়। তাদের আটকাতে গিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের দুইজন কর্মকর্তা আহত হন। পরে আসামিদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে ৬টি এবং মারুফ মোল্লার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ মিয়া শিল্প এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১৫০ থেকে ২০০টি এবং মারুফ মোল্লা ৬০ থেকে ৭০টি মিটার চুরির কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই হেক্সিং মিটার, দুটি স্মার্টফোন এবং পালানোর কাজে ব্যবহৃত একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই চক্রটি একমি ল্যাবরেটরিজ, স্টারলিং লন্ড্রি, বার্জার পেইন্টস, পলমল গ্রুপ, ইফাদ অটোসসহ অন্তত ১৭টি নামিদামি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মিটার চুরি করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মিটার চোরদের আটকের বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া (পিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মাহবুবুল হক সজীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস্ এন্ড ইন্টেলিজেন্স) সৈয়দ ফয়ছল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, লজিস্টিক এন্ড ট্রেনিং) মোঃ তোফাজ্জল হোসেন এবং সহকারী পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস।