আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর দুরুল হোদা (৪২) হত্যাকান্ডের পলাতক আসামী মতিউর রহমান মতিন (২৫) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব-৪ ও র্যাব-৫ এর যৌথ আভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান।
এর আগে রবিবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মতিউর রহমান মতিন (২৫) নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থানাধীন বালাহান্দা এলাকার বাসিন্দা। সে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো বলে জানা যায়।
র্যাব জানায়, গত ২০ নভেম্বর আশুলিয়ার পলাশবাড়ি বাতানটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসা হতে দুরুল হোদা (৪২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্ত্রী খাতিজা (২৮) একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে পোশাক কারখানা থেকে বাসায় ফিরে নিজের স্বামীর মরদেহ দেখতে পেলে তার আর্তনাদে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং ঘরের ভিতর প্রবেশ করে দেখতে পায় যে, নিহত দুরুল হোদার হাত-পা বাঁধা এবং মুখে স্কচটেপ দিয়ে আটকানো নিথর দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে
এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বিষয়টি থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাবকে অবহিত করলে র্যাব-৪ এর একটি অভিযানিক দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উক্ত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা স্ত্রী খাতিজা খাতুনকে (২৭) গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, নিহত দুরুল হোদা (৪২) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার উত্তর ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রীসহ আশুলিয়া পলাশবাড়ির বাতানটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি একটি কীটনাশক কারখানার প্যাকিংম্যান হিসেবে কাজ করতেন এবং তার স্ত্রী আসামি খাতিজা খাতুন(২৮) স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। একই পোশাক কারখানায় চাকুরী করার সুবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী মতিউর রহমান মতিনের সাথে নিহতের স্ত্রী খাতিজা খাতুনের পরিচয় হয় এবং পরিচয়ের এক পর্যায়ে তাদের মাঝে বিবাহ বর্হিভূত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে নিহত দুরুল হোদা ও তার স্ত্রী মধ্যকার প্রায়শই তুমুল ঝগড়া-বিবাদ হতো। পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী খাতিজা খাতুন ও গ্রেপ্তার আসামীর যোগসাজশে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিহতের স্ত্রী গত ১৯ নভেম্বর রাতের খাবার শেষে ভিকটিম দুরুল হুদাকে তার নিয়মিত ঔষধের পাশাপাশি কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়, যার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ভুক্তভোগী অচেতন হয়ে পড়লে আসামী মতিউর বাসায় প্রবেশ করে। নিহতের স্ত্রী খাতিজা খাতুনসহ হাত-পা বেঁধে ও মুখ পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং ভিকটিমের মুখমণ্ডল ও মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মেঝেতে ফেলে রাখে।
পরবর্তীতে গ্রেফতার মতিউর রহমান ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে নওগাঁ জেলায় নিজ এলাকায় আত্মগোপন করে। পরে র্যাব-৪ ও র্যাব-৫ এর যৌথ আভিযানিক দল তাকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।