কুষ্টিয়ার খোকসায় হঠাৎ করে ভূগর্ভস্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ৮টি গ্রামে টিউবয়েলে পানি ঊঠছে না। ফলে কয়েকটি গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকট
দেখা দিয়েছে।
উপজেলা শিমুলিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বসোয়া। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় বিলের পাশের এ গ্রাম। প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের বাস এখানে। সব বাড়িতেই নিজস্ব টিউবয়েলও আছে।
চলতি শুষ্ক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বসোয়া পশ্চিম ও উত্তর পাড়ার অধিকাংশ স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
ফলে টিউবয়েলগুলোতে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে এলাকার মানুষের খাবার ও নিত্যকার কাজের পানির জন্য মাঠের স্যালো পাম্পের পানির ওপর নির্ভরশীল
হয়ে পরে।
ভুগর্ভস্থ পানির স্তর আরো নিচে নেমে যাওয়ায় এ গ্রামের বিলের জমিতে সেচ কাজের প্রায় ৩০টি স্যালো পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শুধু এ গ্রামটিতে নয় এ ইউনিয়নের কালীশংকরপুর, মানিকাট, জানিপুর ইউনিয়নের ইচলাট, ঈশ্বরদীসহ ৮টি গ্রাম জুড়ে খাবার পানির সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে গ্রামের নারী পুরুষ জনপ্রতিনিধি সহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে তাদের সমস্যার বিষয়ে কথা বলা হয়। গ্রামে মেম্বর নাসির উদ্দিন নিজেই দু’সপ্তাহ ধরে প্রতিবেশীর বাড়ির সাব মার্সিবল কলের পানি খাচ্ছেন। গ্রামের অর্ধেক লোকের খাবার পানির সরবরাহ করা হয় একই প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে।
ব্যবসায়ী শুকুর সরদার তার বৈঠক খানার বাইরে একটি ট্যাপে নিয়মিত পানি সরবরাহ করে থাকেন। গ্রামের নারী পুরুষ সবাই এখান থেকে সংসারের প্রয়োজনীয় পানি নিচ্ছেন।
এখানেই দেখা হয়ে যায় মধ্য বয়সী নারী আসমানী,বিলকিস, নাজমা ও মালেকার সঙ্গে। তাদের সবার হাতেই পানির পাত্র। ইফতারির জন্য খাবার পানি নিতে এসেছেন। এই ট্যপকলই তাদের একমাত্র ভরসা বলে তারা জানান।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থানীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন আলী বলেন, জনস্বাস্থ্যের টিউবয়েল বন্ধ হওয়ার কথা না। তবে জনস্বাস্থ্যের কয়টি টিউবয়েল এই গ্রামে আছে সেসম্পর্কে তার কাছে কোন তথ্য নেই বলে জানান।