সাভারে “এক টুকরো উপহার” শিরোনামে ইফতার বিতরণ

আগের সংবাদ

লকডাউনে শ্রমিক কল্যানে কাজ করছে শ্রম ও কর্মসসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন

পরের সংবাদ

এবার বেদের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত :১১:৫১ অপরাহ্ণ, ০৫/০৫/২১

বেদে সম্প্রদায়ের মতো ভাসমান জীবন-যাপন। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে ইমিটেশনের অলঙ্কার, চুড়ি-ফিতা বিক্রয়ের অভিনয় করতেন।বাস্তবে বেদের বেশে তারা বহন করতেন ইয়াবার চালান।

মঙ্গলবার (৪ মে) দিনগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বসিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিনব পন্থায় ইয়াবা পাচারকারী এ চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-২)।

আটকরা হলেন- মো. তারিকুল ইসলাম (২৩), মো. সিনবাদ (২৩), মো. মিম মিয়া (২২), মো. ইমন (১৯) ও মো. মনির (২৮)।

বুধবার (৫ মে) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এক দল কারবারী মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে নদীপথে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজ এলাকায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে আসছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে করে তাদের আটক করা হয়। এসময় ছদ্মবেশ ধারনের সরঞ্জামাদি, রান্নার হাড়ি-পাতিল, বালতি, বহনযোগ্য ডিসপ্লে র্যাক এবং নানা ধরনের ইমিটেশন অলঙ্কার জব্দ করা হয়।

আটকরা কক্সবাজার হয়ে বাংলাদেশে আসা ইয়াবা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল জানিয়ে তিনি বলেন, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অভিনব পন্থা হিসেবে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক বহন করতো। মাদক পরিবহনের জন্য টিনের তৈরি সহজে বহনযোগ্য রান্না করার চুলার মধ্যে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে তা আবার ঝালাই করে জোড়া লাগিয়ে দিতো। তারা মাদকের চালান কক্সবাজার এলাকা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কখনই মহাসড়ক ব্যবহার করতো না।

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে তারা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টেম্পু ব্যবহার করতো। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রাম সিটি গেটসহ বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট এড়াতে প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হাটহাজারী-মানিকছড়ি-গুইমারা-রামগড় হয়ে ফেনী আসতো। সেখান থেকে তারা নোয়াখালীর-চৌমুহনী-সোনাইমুরী এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে মতলব লঞ্চঘাট পর্যন্ত আসতো। দ্বিতীয় ধাপে তারা সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে মুন্সিগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকার প্রবেশ করতো। এতে করে তাদের ৪ থেকে ৫ দিন অথবা কোনো কোনো সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেতো।

এ দীর্ঘ সময় তারা বেদের মতোই জীবন-যাপন করতো এবং সাধারণ মানুষের সন্দেহ দূর করতে পথের মাঝে বিভিন্ন মনিহারী দ্রব্য যেমন-চুড়ি, কড়ি, চুল বাধার ফিতা, শিশুদের কোমড়ে বাধার ঘণ্টা, চেইন, সেফটিপিন, বাতের ব্যথার রাবার রিং ইত্যাদি বিক্রি করতো। মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের কৌশলের মুখামুখি এর আগে কখনও হয়নি এবং তারা যে রুটটি ব্যবহার করছে তাও একেবারে নতুন বলা চলে।

র‌্যাব জানায়, আটকদের পূ্র্ব পুরুষেরা বেদেই ছিলেন। তবে বাপ-দাদার আমলে বেদে জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের খপ্পড়ে পড়ে লাভের আশায় ফের ভাসমান বেদের ছদ্মবেশ নিয়ে ইয়াবার কারবার শুরু করে এ পাঁচ যুবক।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা নিরবিচ্ছিন্নভাবে নৌ-পথ বা সড়ক পথ কোনোটাই ব্যবহার করেনি। সুযোগ বুঝে যেটা নিরাপদ মনে হয়েছে ব্যবহার করেছে। এজন্য এ চক্রে রয়েছে একটি গাইড বা লাইনম্যান। মূলত নিরাপত্তার বিষয়টি তিনি ডিল করতেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তথ্য দিয়ে ইয়াবা বহনকারীদের সহায়তা করতেন।

নতুন এ পন্থার ফলে প্রথাগত পথের বাইরেও র‌্যাবের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের সর্বশেষ