প্রায় দেড় বছর পর আশুলিয়ার চাঞ্চল্যকর হাসিবুল ইসলাম জনি (২১) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ পিপিএম।
নিহত হাসিবুল ইসলাম জনি (২১) রংপুর জেলার কাউনিয়া থানার হরিচরণ লস্কর এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকা জেলার ধামরাই থানার পটল এলাকার আলমগীর সরকারের ছেলে মো. শাহ জালাল সরকার (২৮) এবং রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার উদয়পুর এলাকার নূর আলী খানের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৪০)। তারা দুজনেই আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে আশুলিয়ার মধুপুর উত্তরপাড়া এলাকায় জনিকে মারধর করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ স্থানীয় একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। চারদিন পর পুকুরে ভেসে ওঠা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি পরবর্তীতে পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসেনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৮ জুন পিবিআইর একটি দল আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহ জালাল সরকার ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে শাহ জালাল সরকার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইর তদন্তে উঠে এসেছে, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরেই জনিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন জনি তার দুই সহযোগী সোহাগ ও রানার সঙ্গে এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রয়ের কাজে জড়িত ছিলেন। এ সময় শাহ জালাল, সাইফুলসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার সময় জনির দুই সহযোগী পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জনি পালাতে পারেননি। পরে হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হত্যা করে এবং মরদেহ পুকুরে ফেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ পিপিএম বলেন, ঘটনার পরপরই পিবিআইর ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এ আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।