সাভার কলেজের অধ্যক্ষ অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন

আগের সংবাদ

কোয়ারেন্টাইনে স্পেনের রাজা

পরের সংবাদ

তাজরীন ট্রাজেডির ৮ বছর আজ, ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার দাবি

হাসান ভূঁইয়া

প্রকাশিত :৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ২৪/১১/২০

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকান্ডের ঘটনার আট বছর পূর্তি হলো আজ কিন্তু শেষ হয়নি নিহতের পরিবারের আহাজারী ও আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবার আকুতি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সামান্য সহযোগিতায় কিছুটা স্বস্তি পেলেও আতঙ্ক কাটেনি শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়া শ্রমিকদের। অবহেলার মধ্য দিয়ে এখন তাদের জীবন কাটছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে পোশাক তৈরি কারখানায় অগ্নিকান্ডে একসঙ্গে এতো শ্রমিকদের হতাহতের ঘটনা এটাই প্রথম। যে কারণে এই দিন রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক পালনের পাশাপাশি সারা দেশের পোশাক কারখানা গুলোকে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

২০১২ সালে ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশন লিমিটেড এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছিলো। এ ঘটনায় ১১৩ জন শ্রমিক জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান। এছাড়াও ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডে পুড়েছে কারখানার সকল মালামাল ও সম্পূর্ণ ভবনটি। সেই পুড়ে যাওয়ার ছাপ এখনো ভবনের চার পাশে লেগে আছে। সেদিনের পর থেকে ভবনটির কর্যক্রম একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলেও পুড়ে যাওয়া ৮ তলা ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে দাড়িয়ে আছে। ভবনটি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাররা সহ ভবনের আশে পাশের বাড়িওয়ালারা।

সোমবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে পুড়ে যাওয়া ভবনটির সামেন গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির প্রধান গেটে তালা ঝুলানো। এখানো ভবনটির প্রত্যেক জানালায় আগুনের ছাপ লেগে আছে।

ভবনটির পাশের চায়ের দোকানের মালিক হাবিবুর রহমান। যিনি এ ভবনটি নিয়ে আতঙ্কে দিন পাড় করছেন।

তিনি বলেন, কারো যদি মেরুদন্ড ভেঙে যায় তাহলে কি সে দাড়াতে পারে? পারে না। আমি মনে কি এই ভবনটির মেরুদন্ড ভেঙে গেছে। এই ভবনের কারণে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনটির পূর্বপাশের বাড়িটির মালিক আমিন গাজী ও শহিদ গাজী নামের দুই ভাই। বাড়িটিতে তারসহ আরও ২৫টি পরিবারের বসবাস। তারা জানান, ঘটনার সময় ওই বাড়ির টিন সেড ঘরের প্রায় ১৫ টির রুম পুড়ে গেছে। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি কখন না আবার কোনো দুর্ঘটনা ঘটে।

তাজরীনের আগুনে পুড়ে যাওয়া আহত শ্রমিক জরিনা বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় যে সমস্ত আহত শ্রমিক রয়েছে তাদের জন্য এই ভবনটি ভেঙে পুর্নবাসন করে দেওয়া হক। যাতে আহত শ্রমিকরা ও নিহত শ্রমিকের পরিবার থাকতে পারে।

এ বিষয়ে শ্রমিক নেতা সরোয়ার হোসেন বলেন, আগ্নিকান্ডে পুরে যাওয়া যে ভবনটি দাড়িয়ে আছে সেটির তো কোনো পরিক্ষা এখনো করা হয়নি। পরীক্ষা করা হলে না আমরা জানতে পারবো একটি ঝুকিপূর্ণ কি না। যেহেতু দীর্ঘ সময়েও ভবনটি পরীক্ষা হয়নি, সেহেতু আমরা ভেবে নেবো এটা ঝুকিপূর্ণ ভবন। আমাদের দাবি এই ভবনটি ভেঙে বা সংস্কার করে, এখানে তাজরীনের আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকদের পারিবারের বাসস্থান করে দেওয়া হোক।

জানা যায়, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তাজরীন ফ্যাশন এর মালিক মো. দেলোয়ার হোসেন তার মেয়ে তাজরীনের নামানুসারেই প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করেছিলেন।

অন্যদিকে এ ঘটনার পর থেকে বদলে গেছে সারা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিল্ডিং সেফটি, ফায়ার সেফটি, ইলেকট্রিকাল সেফটি এবং নিরাপদ জরুরী বহির্গমন ব্যবস্থা। সেই সাথে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।