বীরদের উৎসর্গ করে জুলাইয়ের গল্প শোনালেন সায়ান

আগের সংবাদ

বিশ্বের প্রথম এআই শেফ রেস্তোরাঁ চালু হচ্ছে দুবাইয়ে

পরের সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর: পতনের দিন থেকে নতুন সূচনা

ইস্কান্দার হোসাইন রুদ্র

প্রকাশিত :৭:২৩ অপরাহ্ণ, ০৫/০৮/২৫

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট— বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি তারিখ। এদিন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশে সূচিত হয় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় সর্বস্তরের মানুষের গণআন্দোলনে। দমন-পীড়ন, কারফিউ ও নানা বাধা সত্ত্বেও রাজপথে অটল থাকে জনতা, আর শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে, গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

কোটা সংস্কার থেকে গণআন্দোলন

২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের রায় দিলে শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও সমান সুযোগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। শুরুতেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে— বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারি দলের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। খুব দ্রুত আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

জুলাইয়ের উত্তাল রাজপথ

১ জুলাই থেকে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়, রূপ নেয় গণআন্দোলনে। মাসজুড়ে উত্তপ্ত থাকে রাজপথ। ২২ জুলাই সংসদে শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন— শেখ হাসিনা পালায় না। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহ পর, ৫ আগস্ট, তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এর আগে ৩ ও ৪ আগস্টের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হন। ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে ঘোষণা আসে— জুলাই শেষ হবে না, শেখ হাসিনার পতন ছাড়া।

৫ আগস্ট বিকেলে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেখ হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পতনের দিন রাজধানীর চিত্র

সেদিন সকাল থেকেই রাজধানীর প্রবেশপথে মানুষের ঢল নামে। কারফিউ ভেঙে, নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা ঢাকায় প্রবেশ করে। শাহবাগ, ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ী, আগারগাঁওসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল জমে ওঠে।
দুপুরে সরকারের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজপথে শুরু হয় আনন্দ ও উল্লাস। গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনসহ সরকারি ভবনে জনতার ঢল নামে— কেউ চেয়ারে বসে ছবি তোলে, কেউ পতাকা উড়ায়। এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

৫ আগস্টের ঘটনাবলী আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র সাড়া ফেলে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা সংস্থা গণতান্ত্রিক সমাধানের আহ্বান জানায়। তিন দিন পর, ৮ আগস্ট, গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নতুন সরকার ঘোষণা করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা ও নির্বাচনমুখী প্রস্তুতির অঙ্গীকার।

শোক, আত্মত্যাগ ও স্মারক

জাতিসংঘের হিসাবে, ওই সময়কার সংঘর্ষে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন প্রাণ হারান এবং আহত হন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। অনেক পরিবার হারায় প্রিয়জন। তাদের স্মরণে দেশে স্থাপিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ এবং আয়োজিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধানুষ্ঠান।

বর্ষপূর্তির কর্মসূচি

আজ ৫ আগস্ট— জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি। দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে শোক, শ্রদ্ধা ও স্মরণসভা। শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, নাগরিক সমাবেশ, সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ নানা কর্মসূচি চলছে।
এ দিন প্রকাশিত হবে “জুলাই ঘোষণাপত্র”— যা বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে পাঠ করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস।