তীব্র তাপদাহে পুড়ছে রাজশাহী, তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি

আগের সংবাদ

বিজয়নগরে বিপুল মাদকসহ গ্রেফতার ১

পরের সংবাদ

স্ত্রীকে খুন করে লাশ পানির ট্যাংকে রেখে পালায় স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত :৮:০৪ অপরাহ্ণ, ১৩/০৪/২৩

চট্টগ্রামে বাসার ছাদের পানির ট্যাংক থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচ মাস ধরে পালিয়ে থাকা তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ওই যুবকের নাম হাসান আকন্দ (২৭)। তার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মাঝপাড়ায়।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাসারা দক্ষিণ লস্করপুর এলাকা থেকে বুধবার তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানান চট্টগ্রাম পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মো. আনোয়ার উল্লাহ। এ ঘটনায় পিবিআই জানায়, স্ত্রীকে খুন করে গভীর রাতে লাশ বাসার ছাদের পানির ট্যাংকে রেখে দেয়। পরে সাত মাস বয়সী সন্তানকে অন্য বাসায় দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল হাসান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আনোয়ার জানান, গত বছরের ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় হাসান তার স্ত্রী সর্জিনা আক্তারকে খুন করে গভীর রাতে লাশ বাসার ছাদের পানির ট্যাংকে রেখে দেয়। দুই দিন পর সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে প্রতিবেশীরা বাড়ির মালিককে খবর দেয়। পরে ইপিজেড থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

হত্যাকাণ্ডের পর হাসান দুই দিন চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও লাশ উদ্ধারের পর পালিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ী চলে যায়। পরে সেখান থেকে কুমিল্লা এবং পুনরায় ঢাকা হয়ে মুন্সীগঞ্জে আত্মগোপন করে। সেখানে একটি গরুর ফার্মে কাজ নেয় সে।

লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সার্জিনার খালা স্মৃতি বেগম ইপিজেড থানায় মামলা করলে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। টানা অনুসন্ধানের পর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় হাসানের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুরের মেয়ে সর্জিনা (২০) স্বামী-সন্তান নিয়ে চট্টগ্রামের বন্দর টিলা আয়শার মার গলির খলিল হুজুর ভবনের পঞ্চম তলায় থাকতেন। গত বছরের ৫ নভেম্বর ওই বাসার ছাদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, সাত মাস বয়সী সন্তানকে বাড়িওয়ালার বাসায় দিয়ে হাসান বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল দুদিন আগে। বলে গিয়েছিল, তার স্ত্রী এলে যেন বাচ্চাকে তার কাছে দিয়ে দেয়। পরে সে নিজেই থানায় গিয়েছিল স্ত্রী ‘নিখোঁজের’ জিডি করতে। কিন্তু স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের পরই লাপাত্তা হয়ে যায় সে।

হাসান ছিল রিকশাচালক, পারিবারিকভাবে তার সঙ্গে সর্জিনার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু পারিবারিক কলহের কারণে সার্জিনা বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকত। পরে চট্টগ্রামে এসে ইপিজেডে একটি কারখানায় চাকরি নিয়েছিলেন।

হাসানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পিবিআই জানায়, হাসানের পেশা পছন্দ হত না সর্জিনার। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের ঝগড়া লেগে থাকত। সর্জিনার আত্মীয়-স্বজনরা মাঝেমধ্যে বাসায় আসা-যাওয়া করতেন, সেটিও পছন্দ করতেন না হাসান।

৩ নভেম্বর হত্যাকণ্ডের দিন সন্ধ্যায় সর্জিনার মামা তাদের বাসায় বেড়াতে যান। যাওয়র সময় সেই মামা ৫০০ টাকা চাইলে হাসান ১০০ টাকা দেয়। মামা চলে যাওয়ার পর হাসানের সঙ্গে সর্জিনার ঝগড়া বাঁধে।

সে সময় হাসানের ধাক্কায় সর্জিনা দেয়ালের সঙ্গে লেগে মাটিতে পড়ে যান। তখন হাসান ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর রাত ৩ টার দিকে লাশ নিয়ে ছাদের ওপর পানির ট্যাংকে রেখে দেয়। পরদিন পুনরায় সে রিকশা চালাতে যায় বলে পিবিআইয়ের ভাষ্য।

এই বিভাগের সর্বশেষ