মধ্য বয়সী আলাউদ্দিন ও তার স্ত্রী শুকেদা বেগম। প্রায় ২০ বছর ধরে আশুলিয়ার পলাশবাড়ি ও পল্লিবিদুৎ এলাকায় বাসা-বাড়ির আবর্জনার পরিষ্কার করতো তারা৷ এই ময়লা টেনেই তাদের সংসার চলতো। তাদের কাজের সুবিধার্থে ও প্রয়োজনে বছর খানেক আগে জমানো কষ্টের টাকা ও ঋণ করে একটি পুরাতন ট্রাক কিনেছিলেন তারা। যা দিয়ে ময়লা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতো। কিন্তু হটাৎ করেই তাদের ট্রাকটি গত ৫ মার্চ গভীর রাতে চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। উপার্যনের এক মাত্র মাধ্যম ও শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে দিনাতিপাত জীবন যাপন করছেন এই দম্পতি। দিশাহারা হয়ে স্থানীয় নেতাসহ প্রশাসনের দারে দারে ঘুরছেন তারা।
শেষমেশ গত ৬ মার্চ আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন শুকেদা বেগুম (পাগলী)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ময়লা পরিষ্কার করার জন্য একটি পুড়াতন ট্রাক ক্রয় করেন শুকেদা। ট্রাকটির নম্বর ঢাকা-মেট্রো-ন-৮৭৬৭। ট্রাকটির আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা। তিনি তার ট্রাকটি প্রতিদিন পল্লী বিদ্যুৎ বাসষ্ট্যান্ডের উত্তর পাশে ময়লা পট্রিতে রেখেছিলো। সেই ট্রাক দিকে গত ৪ মার্চের ময়লা ফেলে সেই স্থানে রাখা হয়। কিন্ত গভীর রাতে গিয়ে দেখা গেছে ট্রাকটি নেই।
রোববার (১৪ মার্চ) সকালে কথা হয় শুকেদা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, আমরা বাসা-বাড়ির ময়লার কাজ করি। মেলা (অনেক) ময়লা হয় দেখে ৭-৮ মাস আগে ২ লাখ টাকা দিয়ে ট্রাকটা কিনি। কারণ অনেক দুর থেকে ময়লা আনতে হয়। ট্রাকের টাকা অর্ধেক দিয়েছি নিজেদের টাকা আও ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছি। এই সময়ে আমার ট্রাকটা হারায়া গেলো। আমার সব চলে গেছে। ট্রাকটা ছাড়া আমরা চলতে পারিছি না। শুকেদা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি তো ময়লা তুলি মানুষের কাজ করি গরিব মানুষ। আমার গাড়িটা কেন নিলো বাবা। আমার তো কারো সাথে শত্রুতা নেই। এখন আমি ঋণ পরিশোধ করবো কি দিয়ে আর ময়লা গুলো তুলবো কি দিয়ে। গত কয়দিনে অনেক বাড়িতেই ময়লা জমে গিয়েছে গাড়ির জন্য তুলতে পারি না। আমাকে একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দাও বাবা। যে চোরি করছে সে যদি ফেরত দেয় ২০ হাজার টাকা দিবো। তাকে কিছু বলবো না আর।
অলাউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন কাজ করে আমার পল্লিবিদ্যুৎ রাস্তার পশ্চিম পাশে গাড়ি রাখি। আমি যেখানে গাড়ি রাখতাম সেখানে সিকিরিটিও আছে। পাশে মুরগির দোকান ছিলো তারাও মুরগি নামাতো। আর পুলিশের সামনে থেকেই গাড়ি নিয়ে গেছে। পরে পুলিশের সাথে কথা বল্লে তারা বলে। আমার তো জানি না চোর নাকি। আপনার থানায় অভিযোগ করেনা। অভিযোগ করার পর পুলিশ নানা যায়গায় যেতে বলেছে। গাড়িটার খোজে ধুলাই খাল, গাবতলি ও মিরপুর গেলাম কিন্তু কোথাও পেলাম না। প্রতিদিনই খোজতেছি গাড়িটা। খোজতে খোজতে জমানো টাকাগুলোও শেষ করছি প্রায়।
তিনি বলেন, গাড়ি হারানোর পর নতুন করে গাড়ি নেওয়ার জন্য সব বাড়িওয়ালা থেকে ১ হাজার করে টাকা চেয়েছি হাওলাদ হিসেবে। পরবর্তীতে ময়লা টেনে আস্তে আস্তে পরিশোধ করে দিবো। দেখি এখন বাড়িওয়ালারা কি করে। গাড়িটা হারানোর পর আমরা অসহায় হয়ে পরেছি। থানায় যাওয়ার পর পুলিশ আমাদের বলেছে যেখানে ট্রাকটা চোরি হয়েছে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। সেই ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গাড়ির সন্ধান বের করা হবে। একমাস সময় লাগবে।
এই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার আশুলিয়া থানার এসআই ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা বিষয়েটি নিয়ে কাজ করছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গাড়িটা চিহ্নিতের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) জিয়াউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জানিনা। থানায় অনেকই তো অভিযোগ হয়। যেহতু একজন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে সে ব্যবস্থা নিবে।