সাভারের আশুলিয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইনফেকশনের অপারেশন করার ৩৫ দিন পর ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে মধ্য বয়সী নারী রহিমা বেগম মারা গেছে।
বুধবার (০১জুন) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহিমার মৃত্যু হয়।
নিহত রহিমা আক্তার বাগেরহাটের রেজাউল সিকদারের স্ত্রী। তিনি পরিবারসহ জামগড়ার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
রোগীর স্বজনদের সূত্র জানা গেছে, গত (২৭ এপ্রিল) আশুলিয়ার দি ল্যাব এইড হাসপাতালে ইনফেকশন জনিত অপারেশন করে ডাক্তার। পরে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে রেফার্ড করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে সোহরাওয়ার্দীতে না রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। পরে রহিমাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল। দীর্ঘ ১৭দিন চিকিৎসা শেষে ১৮ দিনের মাথা ফের আরেকটি অপারেশন করাতে হয় রহিমার। শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নত হলে নিয়ে আসা হয় আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার নিজ বাসায়। কিন্তু গত মঙ্গলবার (৩১মে) আগের মত আবারো প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন ফের নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে। তবে বুধবার রাত ৯টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রহিমার ছেলে সম্রাট বলেন, গত মাসের ২৭ এপ্রিল আমার মাকে অপারেশন করেন আশুলিয়ার দি ল্যাব এইড হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ ফৌজিয়া। এরপর ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করানোর পর বাড়িতে নিয়ে আসি, ফের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে ফের (৩১মে) মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আমার ছোট ভাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আজ বুধবার রাত নয়টায় হাসপাতালে মা মারা গেছেন। আমার মার মত আর কোনো মা যেন ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু না হয়। এজন্য দি ল্যাব এইড হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করবো এবং এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।
ডাঃ ফৌজিয়া বলেন, আসলে তার জরায়ুতে কোনো টিউমার ছিলো না। কিছু নার্ভ ইনফেকশন ছিলো যা অপারেশন করে অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া তার নার্ভগুলো অস্পষ্ট ছিলো। অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে৷ এখানে আমার কোনো দোষ ছিলো না।
এ বিষয়ে দি ল্যাব এইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, রোগীর স্বজনদের সাথে গত কয়েক দিন আগে আমাদের আপোষ মীমাংসা হয়ে গেছে। একটু ভুল বোঝাবুঝি ছিল, তা ছাড়া কিছুই না।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সায়েমুল হুদা বলেন, এধরনের কোন অভিযোগ এখনো পাইনি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে উক্ত হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।