বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের ভ্রাতৃত্ব সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেত্রী রোকেয়া জাবেদ মায়া নিজেকে তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এক লড়াকু নারী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, দেশে অনেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন অল্প কয়েকজন। তাই তিনি ক্ষমতার চর্চার চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করাকেই প্রাধান্য দিতে চান।
মায়া জানান, তার শৈশব কেটেছে গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলার গ্রামীণ পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই গ্রামের মায়েদের অসহায়ত্ব, বোনদের বঞ্চনা, শিক্ষিত বেকার তরুণীদের হতাশা, শিশু শ্রম ও পেশী শক্তির প্রভাব তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। এসব অভিজ্ঞতাই তাকে সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে ভাবতে এবং রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। তবে এর আগেই তিনি নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। রমজানে অসচ্ছলদের মাঝে ইফতার বিতরণ, ঈদে দরিদ্র ও পথশিশুদের উপহার প্রদান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগে তিনি যুক্ত ছিলেন।
২০২১ সালে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া সহযোদ্ধাদের দেখতে গেলে তাকেও আটক করে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি। তার দাবি, কোনো ধরনের অপরাধ ছাড়াই দীর্ঘ সময় তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসন প্রসঙ্গে মায়া বলেন, প্রকৃত নারী নেতৃত্বের ভিত্তি হলো সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সংগঠন গড়ে তোলার সক্ষমতা। রাজনীতিতে ত্যাগী, শিক্ষিত ও আদর্শবান নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। যারা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না এবং দুর্নীতির কাছে মাথা নত করেন না, তারাই নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য—এমনটাই তার বিশ্বাস।
তিনি মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ে সাহসী নারী নেতৃত্ব বিকাশে ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন জরুরি। নারীর অধিকার, সম্মান ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।
সংরক্ষিত নারী আসনে দায়িত্ব পালনের সুযোগ এলে তিনি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান। তবে বিষয়টি পুরোপুরি দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেন তিনি। দলের হাইকমান্ড এবং তৃণমূলের সহযোদ্ধাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে নীতি, আদর্শ, সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জনগণের সেবা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন রোকেয়া জাবেদ মায়া।