আশুলিয়ায় স্বামীকে না পেয়ে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

আগের সংবাদ

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় কারা নির্যাতিত নেত্রী মায়া

পরের সংবাদ

আশুলিয়ায় আন্তঃজিলা ট্রাক ইউনিয়নের দুই কমিটি, বিভ্রান্তিতে পরিবহন শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত :১২:২৪ অপরাহ্ণ, ২৭/০২/২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় বাংলাদেশ আন্তঃজিলা ট্রাক কভার্ডভ্যান মিনিট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের বাইপাইল (পূর্ব) শাখা কমিটির দুইটি কাগজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুই কমিটির কোনটি বৈধ তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

কমিটি দুইটির নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ আন্তঃজিলা ট্রাক কভার্ডভ্যান মিনিট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মো. ইয়াসিন মীরকে সভাপতি এবং মো. আবু জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে বাইপাইল পূর্ব শাখার কার্যকরী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্বাক্ষর করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ কফিল উদ্দিন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সাত্তার।

অন্যদিকে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর বাংলাদেশ আন্তঃজিলা ট্রাক কভার্ডভ্যান মিনিট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের বাইপাইল (পূর্ব) শাখা কমিটির অনুমোদন করে একটি চিঠিতে ইস্যু করা হয়। যেখানে আগের কমিটি বাতিল করে মো. সোহেল আহম্মেদ লিটনকে সভাপতি ও মো. সোহাগ মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। সেই কাগজে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোশারফ হোসেন একক ভাবে দু্টি স্বাক্ষর করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় সভাপতির কার্যালয় থেকে লিটন-সোহাগের এই কাগজটিকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বাক্ষরিত বাইপাইল শাখার অনুমোদিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জুয়েল বলেন, আমি এই শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ২০০৯ সালে আমি প্রথম কমিটি আনি এবং তিন বছর চালানোর পর ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন আমাকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর আমি এলাকায় আসতে পারিনি। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাকে ফোন দিয়ে গ্রাম থেকে ডেকে আনেন এবং ইয়াসিন মীরকে সভাপতি ও আমাকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কার্যক্রম যখন ঠিকঠাক চলছিল, হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখি লিটন ও সোহাগের নামে আরেকটি কমিটির কাগজ ভাসছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও মিথ্যা। তারা টাকার বিনিময়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে এই অবৈধ কাগজ এনে আমাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। আপনারা সাংবাদিক, যাচাই করে দেখুন কারটা লিগ্যাল। আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মহোদয় বর্তমানে অসুস্থ থাকলেও তিনি আমাদের জানিয়েছেন, আমাদের কমিটিই বহাল আছে এবং তিনি আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলেছেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বাইপাইল শাখার অনুমোদিত কমিটির সভাপতি মো. সোহেল আহম্মেদ লিটন বলেন, তাদের (ইয়াসিন-জুয়েল) কমিটি আগে ছিল, কিন্তু সেটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্র থেকে আমাদের নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে। আমাদের কমিটিই বৈধ আর তাদেরটা অবৈধ।

এ বিষয়ে কথা বলতে কেন্দ্রীয় কমিটির মোঃ মোশারফ হোসেনের নাম্বারে (০১৬৭৮****২৯) একাধিকবার ফোন করার চেষ্টা করেও কল না ঢুকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পূর্বের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে কিনা ? এ বিষয়ে কথা বলতে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব কফিল উদ্দিনের মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে ফোন কলটি রিসিভ করেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. কুদ্দুস। এ সময় মো. কুদ্দুস জানান যে, ইয়াসিন মীর ও আবু জুয়েলের কমিটিই বৈধ। ফেসবুকে ছড়ানো লিটন-সোহাগের কাগজটি ভুয়া এবং বিভ্রান্তিমূলক।