সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় কারা নির্যাতিত নেত্রী মায়া

আগের সংবাদ

উদ্ভাবনী গবেষণায় বিশ্বজয়: আন্ডারওয়াটার ভেহিকল প্রযুক্তিতে বাংলাদেশি ৩ শিক্ষার্থীর স্বর্ণপদক

পরের সংবাদ

বালুর ট্রাকে অবৈধ জিরার চালান: রফাদফার অভিযোগে এসআই ক্লোজড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত :২:৩৮ অপরাহ্ণ, ০৫/০৩/২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় বালুর ট্রাকে করে আনা ২৫০ বস্তা অবৈধ জিরার চালান আটকের পর কারবারির নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনা জানাজানির পর অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেনকে আশুলিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার (০৪ মার্চ) দুপুরে তাকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে উত্তরবঙ্গ থেকে বালুর ট্রাকে করে বিশেষ কায়দায় ২৫০ বস্তা অবৈধ ভারতীয় জিররে চালান আশুলিয়ায় গনকবাড়ী এলাকায় আনা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ট্রাকটি আটক করেন। কিন্তু আটককৃত মালামাল থানায় জমা না দিয়ে বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তিনি ওই জিরা কারবারি ফারুক খানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় লিপ্ত হন এবং এক পর্যায়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি জিরা ভর্তি ট্রাকটি ছেড়ে দেন। তবে টাকার অংক বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এসপির দ্বারস্থ হোন ওই কারবারি। পরে বিষয়টি জানা জানি হলে এসআই আনোয়ার হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

অনুসন্ধানে জসিম নামের এক পুলিশ সদস্যের নাম পাওয়া যায়। সূত্র জানায়, জসিম টাকা লেনদেনের মূলহোতা। তবে প্রাথমিকভাবে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রাকটি আটকের পর এসআই আনোয়ার মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। এ সময় ওই জিরা কারবারির নিকট থেকে তিনি নগদ ৬ লাখ টাকা ও ৭ লাখ টাকার চেক নেন এবং গাড়ীটি ছেড়ে দেন। তিনি বলেন, শুনেছি পরে নাকি ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তবে অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, এসআই আনোয়ার ট্রাকটি আটক করার পর প্রথমে ২ লাখ টাকা নেন। এরপর ধাপে ধাপে আরও নগদ ৭ লাখ টাকা এবং ৬ লাখ টাকার চেকসহ মোট ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই অবৈধ জিরার চালানটি ছেড়ে দেন।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন জিরার কারবারি ফারুক হোসেন পুলিশের এই অনৈতিক চাপের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) কে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এসআই আনোয়ারকে আশুলিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

বালুর ট্রাকে লুকিয়ে জিরা পরিবহনের বিষয়ে কথা বলতে অবৈধ জিরা কারবারি ফারুক খানের মুঠোফোন নাম্বারে (01920***01) যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, তিনি গাড়ীতে আছেন, তাই কথা বলতে পারবেন না।

তবে এ সময় ফারুক খান বার বার জানতে চান যে তার নাম্বার কে দিয়েছে? যদি তার নাম বলা হয়, তাহলে তিনি কথা বলেবেন। এ সময় তিনি ঘটনার সব খবর রাকিব নামের একজন জানেন বলেও জানান। পরে তার কাছে রাকিবের নাম্বার চাওয়া হলে তিনি তা দেননি। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন কলটি কেঁটে দেন।

এ ঘটনা সম্পর্কে অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। আমি এখন হেডকোয়ার্টার্সে আছি, কথা বলতে পারবো না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসআই আনোয়ারকে ক্লোজড করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে অফিশিয়ালি আমি এখনো কিছু জানি না।

এ ঘটনার মূলহোতা অবৈধ জিরা কারবারি ও পুলিশ সদস্য জসিমকে নিয়ে টিম আশুলিয়া এক্সপ্রেস এর অনুসন্ধান চলমান রয়েছে…..