ঢাকার আশুলিয়ায় ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে এক যুবককে অপহরণচেষ্টা ও মারধর করে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভিকটিমের চিৎকারে স্থানীয় জনতা তাদের হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দিয়ে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ময়মনসিংহ সদর থানার শম্ভুগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা বাজার এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে ইলিয়াস আহমেদ নিরব (৩২) ও আশুলিয়ার গণকবাড়ী এইআরই কলোনি এলাকার মৃত বিদু চন্দ্র দাসের ছেলে কিরণ চন্দ্র দাস (২৭)। এদের মধ্যে নিরব বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন লতিফপুর জোড়া ব্রিজ এলাকায় এবং কিরণ আশুলিয়ার ছনটেকি এলাকায় থাকত বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে আশরাফুল হক নামের এক যুবক তার বান্ধবীকে জামগড়া চৌরাস্তার কাছে বাসায় পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ইলিয়াস আহমেদ নিরব ও কিরণ চন্দ্র দাস তার পথরোধ করে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। এরপর তারা আশরাফুলকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।
আশরাফুল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতারকরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে এবং অটোরিকশাটি ভাদাইলের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে আশরাফুল হক আশপাশে লোকজন দেখে নিজেকে বাঁচাতে “ভুয়া ডিবি” বলে চিৎকার করেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিক এগিয়ে এসে আসামিদের হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং আশরাফুলকে উদ্ধার করে। জনতা তাদের পরিচয় চ্যালেঞ্জ করলে তারা সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। এতে উত্তেজিত জনতা দুই ভুয়া ডিবি সদস্যকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুই আসামিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
ডিবি পুলিশ জানায়, আটককৃত ইলিয়াস আহমেদ নিরবের পিসিপিআর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।