সাভারের আশুলিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ছেলেসহ এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কামরুল হাসান নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
সোমবার বিকেলে আশুলিয়ার জামগড়া উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার মৃত শেখ আয়েত আলী হাজীর ছেলে মোঃ নাছির আলী (৫৪) এবং নাছির আলীর দুই ছেলে মেহেদী হাসান (২৬) ও সৈকত (২২)।
অভিযুক্তরা হলো- আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার আবুল কাশেম মোল্লার ছেলে কামরুল হাসান (২৫), একই এলাকার মৃত আজগর আলীর ছেলে আবুল কাশেম মোল্লা (৫৫), আব্দুস সাত্তারের ছেলে রজ্জব (২৫), মৃত মনতাজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ হাবিবুর (২৬) ও আব্দুল আজিজ (৩১), আফছার মেম্বারের ছেলে মনোয়ার হোসেন ওরফে রাজ কুমার রাজু (২৮), ছানোয়ার হোসেনের ছেলে নাহিদ (২৬), শাহাদাৎ মুন্সির ছেলে মোঃ সোহাগ (৩০) ও গনু ফকিরের ছেলে মাজেদ (২৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে সোমবার বিকেলে অভিযুক্তরা লোহার রড, শাবল, রাম দা, চাপাতি, ছোরা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আশুলিয়ার জামগড়া উত্তরপাড়া এলাকার ছফর শেখের বাড়িতে প্রবেশ করে তার ছোট ভাই ব্যবসায়ী মোঃ নাছির আলীসহ তার দুই ছেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় অভিযুক্ত কামরুল হাসান তাহার হাতে থাকা রাম দা দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ী নাছির আলীর মাথায় কোপ মেরে জখম করে। পরে সে মাটিতে পড়ে গেলে অভিযুক্ত আবুল কাশেম তার হাত থাকা চাপাতি দিয়ে তার বাম পায়ে ও বাম হাতে কুপিয়ে জখম করে।
এ সময় ব্যবসায়ী নাসির আলীর বড় ছেলে মেহেদী হাসান (২৬) এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত রজ্জব তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেটের বাম পাশে পার মেরে গুরুতর জখম করে। পরে ছোট ছেলে সৈকত (২২) তাদেরকে ছাড়াইতে গেলে অভিযুক্ত হাবিব তার ডান হাতে ও ডান পায়ে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় অন্যান্য অভিযুক্তরা তাদের সাথে থাকা লোহার রড ও লাঠি দ্বারা এলোপাতাড়ী ভাবে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে তাদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন ওরফে রাজ কুমার রাজু তার হাতে থাকা রামদা উচু করে কুপিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা অভিযুক্ত কামরুল হাসানকে রাম দা সহ হাতে নাতে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে রাম দা সহ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ সময় স্থানীয়রা দুই ছেলেসহ ব্যবসায়ীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। সেই সাথে বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।