তরমুজপ্রতি ১০ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মো. সবুজ ম্যালাকারকে কৃষকরা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করেছেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে আমতলী উপজেলার হলদিয়া হাটে এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রলীগ নেতা সবুজ ম্যালাকারের বিচার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
জানা গেছে, কিশোর গ্যাং লিডার আমতলী উপজেলার ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ডজনখানেক মামলার আসামি মো. সবুজ ম্যালাকার ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে হলদিয়া ইউনিয়নের সকল তরমুজ চাষিদের কাছে তরমুজপ্রতি ১০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। কৃষকরা চাঁদা না দিলে তরমুজের গাড়ি আটকে চাঁদা আদায় করছে ছাত্রলীগ নেতা সবুজ ম্যালাকার এমন অভিযোগ তরমুজ চাষিদের। নিরুপায় হয়ে কৃষকরা তার দাবিকৃত চাঁদা দিয়ে আসছেন।
কিন্তু কৃষক বাসু দেব শীল তার দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় ছাত্রলীগ নেতা কিশোর গ্যাং লিডার সবুজ ম্যালাকার। সোমবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা সবুজ ম্যালাকার কৃষক বাসুদেব শীলকে তার অফিসে ধরে আনে। ওখানে নিয়ে তাকে মারধর করে।
কৃষক বাসুদেব শীলকে মারধরের প্রতিবাদ করে বরগুনা জেলা পরিষদ সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফ-উল–হাসান আরিফ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও সবুজ ম্যালাকার লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়। তাকে রক্ষায় স্থানীয় রাকিবুল হাসান ও আরিফ হোসেন এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করে।
কিশোর গ্যাং লিডার সবুজ ম্যালাকারের এ কুকর্মের খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে তাকে গণধোলাই দেয়। কৃষকদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিনহাজুর রহমান তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
এদিকে কিশোর গ্যাং লিডার ছাত্রলীগ নেতা সবুজ ম্যালাকারে শাস্তি দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছে। এছাড়াও ছাত্রলীগ নেতা সবুজ ম্যালাকারের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তার অভিযোগ।
গত বছর ১৬ আগস্ট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খানকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ওই মামলায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি একের একের অপরাধের অভয়ারণ্য গড়ে তোলে। চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধে জড়িত সবুজ। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা রয়েছে।
তরমুজ চাষি কৃষক বাসু দেব শীল বলেন, আমি ৩০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। আমার খেতের প্রত্যেক তরমুজপ্রতি তাকে ১০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। আমি এতে রাজি না হওয়ায় সোমবার রাতে আমাকে তার অফিসে ধরে এনে মারধর করেছে। আমাকে মারধর করার প্রতিবাদ করায় সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. আফির-উল হাসান আরিফকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।
কৃষক জালাল হাওলাদার, জসিম মোল্লা, মজনু প্যাদা, বসির গাজী বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সবুজ ম্যালাকার প্রভাবখাটিয়ে এলাকার তরমুজ চাষিদের কাছে তরমুজপ্রতি ১০ টাকা দাবি করেছে। কৃষকরা নিরুপায় হয়ে তাকে চাঁদা দিচ্ছে। যারা চাঁদা দেয়নি তাদের তরমুজ বোঝাই গাড়ি আটকে দিয়ে টাকা আদায় করছে। আমরা ওই চাঁদাবাজ সবুজ ম্যালাকারের নির্যাতন থেকে মুক্তি চাই।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিনহাজুর রহমান বলেন, আহত সবুজ ম্যালাকারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. রেজাউল কবির রেজা বলেন, মারধরের খবর শুনেছি। যে কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে ওই ঘটনা যদি সত্য হয় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।