‘স্বপ্ন’ এখন আশুলিয়ায়

আগের সংবাদ

সাভারে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে শিক্ষার্থী খুন, আটক ১

পরের সংবাদ

আশুলিয়ায় ইলেকট্রিশিয়ান খুন, মামলায় ছাত্রলীগ নেতাসহ ১২ জনের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত :৯:০০ অপরাহ্ণ, ২৩/০১/২১

আশুলিয়ায় এক ইলেকট্রিশিয়ান শাহজাদা খন্দকার মনাকে (৫৫) কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাসহ ১২ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এঘটনায় গ্রেফতার ৪ জনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকার মৃত নুরুল হক খন্দকারের ছেলে শাহজাদা খন্দকার মনা নিজ বাড়ির পাশে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরে গভীর রাতে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের ভাই শাহাবুদ্দিন খন্দকার পিন্টু ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগম। পরে শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) রাতে আশুলিয়া থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের ভাই শাহাবুদ্দিন খন্দকার পিন্টু।

মামলার আসামিরা হলেন- ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকার আলাউদ্দিন মিস্ত্রির ছেলে আল আমিন ওরফে বাবু মিজি (২৬), একই এলাকার জমির মোল্লার ছেলে নুরুজ্জামান (৩৫), মো. শাহজাহানের ছেলে ও আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ টিটু (৩০), শাহজাহান সরকারের ছেলে ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নেতা সাইফুল ওরফে ছোট সাইফুল (৩৮) ও কবির হোসেনের ছেলে মো. রনি (২৪), জয়পুরহাট জেলার সদর থানার রিপন হোসেনের ছেলে রকি (২১), নড়াইল জেলার নড়াগতি থানার খাশিয়াল গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে রেজাউল ইসলাম পারভেজ (১৯), মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার কচুয়া গ্রামের মো. লিটনের ছেলে মেহেদী হাসান নাজমুল (২৫), একই জেলার সদর থানার ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ও যুবলীগকর্মী মো. আরিফ (৩০) ও শিবালয় থানার তেওতা গ্রামের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল (৩০), টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার সিনন্দীন গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে মো. সুমন (২৫) ও একই জেলার দেলদুয়ার থানার নান্দুলিয়া গ্রামের মৃত আমির খানের ছেলে মো. রাব্বী (১৯)। তবে তারা সবাই ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকার বর্তমান বাসিন্দা।

এঘটনায় গ্রেপ্তার চার জন হলেন- মো. জুয়েল, মো. নুরুজ্জামান, মেহেদী হাসান নাজমুল ও রেজাউল ইসলাম পারভেজ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ডেন্ডাবরের ওই এলাকায় একটি ক্লাব তৈরি করে বিভিন্ন সময় আসামিরা গানবাজানা, মাদন সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসচ্ছিলো। আশেপাশের বাসিন্দাদের সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় মনা তাদের এসব বন্ধ করতে বলে। পরে বৃহস্পতিবার আবার গেলে মনাকে বেধরক মারধর করেও দেশিয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শামিউল আলম শামিম বলেন, আটক জুয়েল, নুরুজ্জামান, সুমন, মেহেদী নামে কোন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে আমি চিনি না। শুধু আরিফকে চিনি ভালো করে। সে যুবলীগ করে। আর টিটোরে একটা পক্ষ ফাঁসাচ্ছে। টিটু যেহেতু আমার কমিটির সাধারণ সম্পাদক। সে যদি অপরাধী হয় তাহলে শাস্তি হবে। মামলা হওয়া মানেইতো সে অপরাধী না।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, গতকাল রাতেই নিহতের ভাই শাহাবুদ্দিন খন্দকার পিন্টু একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাও মামলার আসামি। হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফদার চারজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা
এই বিভাগের সর্বশেষ