আশুলিয়া মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

আগের সংবাদ

আশুলিয়ায় দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত আটক

পরের সংবাদ

আশুলিয়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৫ জনের নামে মামলা

হাসান ভূঁইয়া

প্রকাশিত :১১:৪৫ অপরাহ্ণ, ২৬/০২/২৫

ঢাকার আশুলিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মোমিনুল ইসলাম মোমিন (২৮) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত নামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিহতের মা ছবেদা খাতুন (৫২) বাদি হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন- আশুলিয়ার দক্ষিন বাইপাইল (চাড়ালপাড়া) এলাকার জুলমত আলী মুন্সির ছেলে রুবেল মুন্সি (৩০), একই এলাকার হারুন মুন্সির ছেলে আশিকুল ইসলাম ওরফে আসিফ (২২) ও সুরুজ মিয়ার ছেলে নাজমুল ওরফে কালু (১৭), কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার ধামঘর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত দৌলত মিয়ার ছেলে মো: ইব্রাহিম (৩৮), দক্ষিণ বাইপাইল (চাড়ালপাড়া) এলাকার আনোয়ার হোসেন আনুকের মোঃ আলিফ (১৭), একই এলাকার মোঃ সোহেলের ছেলে রমজান আলী (১৫), আশুলিয়ার পলাশবাড়ী কাঠালতলা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ রাকিব (১৭), দক্ষিন বাইপাইল (চাড়ালপাড়া) এলাকার জুলমত আলী মুন্সির ছেলে খোরশেদ মুন্সি (৪২) ও হারুন মুন্সি (৪৮), একই এলাকার মোঃ বাদশা মিয়ার ছেলে হৃদয় (২৫), ইলেকট্রিশিয়ান রিপন (২২), মুজুরুল (২৪), সাকিল (১৯), রিয়াদ মোল্লা (৪২) ও রিপন (৩৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিহত মোমিনুলের সাথে আসিফের সামান্য বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। আসিফ বিষয়টি রুবেলকে জানাইলে সে সকল অভিযুক্তদের একত্র করে মোমনিকে মারধরের জন্য খোঁজাখুজি করতে থাকে এবং সবাই একত্রে মোমিনকে খোঁজ করার জন্য তাদের বাড়ীতে যায়। সে সময় মোমিনকে বাড়ীতে না থাকায় তাকে না পেয়ে চলে যায়। পরে রাত ১১টার দিকে মোমিনুল ইসলাম আশুলিয়ার বাইপাইল বসুন্ধরা সি ব্লকের একটি মুদির দোকানের সামনে রাস্তার উপর দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় বিবাদীরা দা, লোহার রড, চাপাতি, হকিষ্টিক ধারালো চূড়া সহ দেশীয় অস্ত্র সন্ত্র নিয়ে তার উপর অতর্কিতভাবে হামলা করে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।

এক পর্যায়ে খোরশেদ মুন্সি ও হারুন মুন্সি তাকে ধরে রাখে এবং রুবেলের হুকুমে আসিফ তার হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়া মোমিনের ডান হাতের পাখনার উপরে কোপ মেরে গুরুত্বর জখম করে। মোমিন মাটিতে পড়ে গেলে নাজমুল ইসলাম ও কালুর হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে মোমিনের পিঠের বাম পাশে স্টেপ করে গুরুত্বর জখম করে এবং রুবেল মুন্সি তাহার হাতে থাকা ধারালো ছোড়া দিয়ে পিঠে আঘাত করে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় অভিযুক্তরা যার যার মত মোমিনকে পিটিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে ফেলে চলে যায়।

ইমরুল হাসান নামের একজন ঘটনার বিষয়ে সংবাদ পেয়ে সেখানে পৌছে মোমিনকে গুরুত্বর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে মোমিন মারা যায়। পরে তার লাশ উদ্ধার করে বাসায় আনা হয়। ঘটনার বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়া হলে পুলিশ বাড়ীতে এসে নিহতের মরদেহ  ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়ার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল আল মামুন বলেন, আশুলিয়ার দক্ষিণ বাইপাইল এলাকায় মোমিন নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৫জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতমধ্যে ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  সেই সাথে ঘটনার মূলহোতা রুবেলসহ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।