শ্রেণিকক্ষে নির্যাতনের শিকার বাবা-ছেলে পেল আশ্রয়ণের ঘর

আগের সংবাদ

প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

পরের সংবাদ

ক্রেতা ঠকানোর প্রতিযোগিতায় অসাধু ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত :১২:৩৭ অপরাহ্ণ, ০৬/০৪/২৩

চট্টগ্রামে ঈদুলফিতরের কেনাকাটাকে সামনে রেখে মার্কেটগুলোয় তৎপর হয়ে উঠেছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। কাপড়ের মার্কেট থেকে শুরু করে ফলের মার্কেট-সর্বত্রই তাদের অপতৎপরতা লক্ষণীয়। এসব ক্ষেত্রেই তাদের নানা কৌশলে ক্রেতা ঠকানোর প্রতিযোগিতা চলছে।

পুরোনো কাপড়ে নতুন ট্যাগ লাগিয়ে যেমন বিক্রি করা হচ্ছে, তেমনই আমদানি মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে গ্রাহকের পকেট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিদিন বিভিন্ন মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের এ প্রতারণার চিত্র উদ্ঘাটন করেছে। তাদের অভিযানেও নিয়ন্ত্রণে আসছেন না অসাধু ব্যবসায়ীরা। এসব ব্যবসায়ীর কাছে সাধারণ ক্রেতা যেন অসহায়। একাধিক ক্রেতা জানিয়েছেন, ঈদ মার্কেট ঘিরে পুরো নগরীতে চলছে অসাধু ব্যবসায়ীদের দাপট। মার্কেট ও শপিংমলগুলোয় নতুন পণ্যের পাশাপাশি পুরোনো পণ্যকেও নতুন বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে নতুন ট্যাগ লাগিয়ে। বিশেষ করে ডিসকাউন্টের দোকানগুলোয় পুরোনো পণ্য বিক্রি চলছে বেশি। ‘ঈদ কালেকশন’ ব্যানার টানিয়ে এই প্রতারণা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করছেন।

মিমি সুপার মার্কেটে আসা জমির উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, টেরিবাজারে যেসব থ্রি-পিসের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা; মিমি সুপার মার্কেটে একই মানের থ্রি-পিসের দাম নেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। টেরিবাজারে পাইকারি দামে যে শাড়ি আড়াই হাজার টাকা; একই মানের শাড়ি মিমি সুপার মার্কেট, সানমার শপিং সেন্টারসহ অভিজাত শপিংমলে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

রোজা শুরুর পর চট্টগ্রামে বিভিন্ন মার্কেট, আড়ত ও বাজারে অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন ও অধিদপ্তরের টিম। তাদের অভিযানে পণ্যের কেনাবেচায় বিস্তর অসংগতি পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন কাপড়ের মার্কেটে ‘ফিক্সড প্রাইস’ হিসাবে পণ্যের গায়ে অতিরিক্ত দাম ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকরাও ভালো মানের বিবেচনা করে দরকষাকষি ছাড়াই এসব পণ্য কিনছেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাইজ ট্যাগ না লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোড বসিয়ে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ও খুচরা কাপড়ের মার্কেট টেরিবাজার। এই বাজারে ‘মনে রেখ’ নামে একটি দোকানে প্রাইজ ট্যাগ ছাড়া গোপন কোড ব্যবহার করে শাড়ি-লেহেঙ্গা বিক্রি করা হচ্ছে অস্বাভাবিক দামে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম সেখানে অভিযান চালায়। অস্বাভাবিক মূল্যে বিক্রি করা পণ্যের আমদানির বিল ভাইচার চাইলে দোকান কর্তৃপক্ষ তা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে দেখাতে পারেনি। বেশি দামে পণ্য বিক্রিসহ নানা অপরাধে এই দোকানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ইচ্ছামতো মূল্য ট্যাগ লাগিয়ে পণ্য বিক্রির অপরাধে নগরীর প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দুই প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। পণ্যের গায়ে আমদানিকারকের স্টিকার না থাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ কসমেটিক্স থাকায় সেফওয়ে সুপার স্টোরকে ৩০ হাজার ও আমদানি করা কাপড়ের ভাউচার দেখাতে না পারায় মনি শাড়িজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চট্টগ্রামের বৃহৎ ফল মার্কেট হিসাবে খ্যাত স্টেশন রোডের ফলপট্টিতে খেজুরের দোকানে অভিযানে পাওয়া গেছে ভয়াবহ চিত্র। এখানে আমদানির পাঁচগুণ দামে খেজুর বিক্রির তথ্য পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি খেজুর চার থেকে পাঁচগুণ দামে বিক্রি করার অভিযোগে ২৫ মার্চ ফলপট্টির কয়েকটি দোকানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে মার্কেটে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে ক্রেতা ঠকাচ্ছে। ঈদ মার্কেটের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে তারা আরও তৎপর হয়েছেন। এ অবস্থায় অভিযান ও জরিমানার মাধ্যমে আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’

এই বিভাগের সর্বশেষ