সাভারে একটি কারখানার দূষিত বর্জ পানির বিষক্রিয়ায় মরলো ৬০০০ কেজি মাছ।তরুণ উদ্যোক্তা রাশেদুল ইসলাম সজল অভিযোগ করে বলেন, ডেনিম নামের একটি পোশাক কারখানার দূষিত বর্জ পানি তার পুকুরে ঢুকলে তার মাছ মারা জেতে শুরু করে।
খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সোমবার (৩০মে) দুপুরে আশুলিয়ার চারিগ্রাম এলাকায় রাশেদুল ইসলাম সজলের চাষ করা ১০ একর পুকুরে গিয়ে দেখতে পাওয়া যায় পুকুর জুড়ে কালো পানির উপর ভাসছে মরা মাছ।
ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা রাশেদুল ইসলাম সজল জানান, মালয়েশিয়ার একটি ইউনিভার্সিটি তে পড়াশোনা শেষ করে এসে তরুণ উদ্যোক্তা হয়ে ১০ একর পুকুর লিজ নেয়৷ দুই বছর আগে পুটি, কালিবাউস, নলা, কাতল, মিরকে, বাটাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ ছেড়ে চাষ শুরু করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত বছরও আমি মাছ বিক্রি লাভ করতে পারিনি। এবার ভেবেছিলাম সেই লাভটা তুলতে পারবো। মাছগুলো আর কিছুদিন পরেই বিক্রি শুরু করতাম। কিন্তু পাশে থাকা আরন ডেনিম নামের একটি পোশাক কারখানার বর্জ পানি বৃষ্টির কারণে আমাদের পুকুরে ঢুকে যায়৷ আর গত তিন দিন থেকে ধীরে ধীরে মাছ মরে ভাসতে থাকে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকার মত মাছ মারা গেছে। কারখানাটির সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তারা বিষয়টি আমলেই নেই নি। আমি বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করছি।
এ বিষয়ে আরন ডেনিম লিমিটেড পোশাক কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক এডমিন মোঃ শফিক বলেন, আসলে আমরা তো এধরনের কিছু জানি না। এরকম কিছু হওয়ার কথা না। আমরা ইটিপি চালাই ২৪ ঘন্টাই। আর আমাদের তাছাড়া কাজ কর্মও একটু কম। আর আমাদের ইটিপির সক্ষমতা ৫০ মিটার কিউব প্রতি ঘন্টায় আর এখন আমাদের কাজ হচ্ছে ২৫ মিটার কিউবেরও কম। তাই এরকম তো হওয়ার কথা না। আর ফ্যাক্টেরি তো আমাদের একা না আশেপাশে আরও ফ্যাক্টেরি আছে। যাই হোক আমরা জানি না আসলে কার থেকে কি হয়েছে৷
সাভার উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান সরকার বলেন, আমি উনাকে (সজল) কে বলেছি তার পুকুরের পানি আনতে। পানি আনলে কি সমস্যা সেটা আমরা বলতে পারবো। পানি পরিক্ষা করে আমরা দেখবো এবং সেই অনুযায়ী সমাধান দিতে পারবো। আর এমন বর্জ পানি যদি পুকুরে আসে তাহলে সেটা বন্ধ করতে হবে। আর উনি আসতেছে আসলে সমাধান কি হয় আমরা দিয়ে দিবো আরকি।