ঢাকার আশুলিয়ায় ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে হত্যা করে বালুর নিচে লাশ গুম করার যে খবরটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব বলে প্রমাণিত হয়েছে। কথিত সেই ‘নিহত’ কিশোর নাহিদ হাসানকে (১৫) সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় ঢাকার গাবতলী থেকে খুঁজে পেয়েছে তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
এর আগে গত মঙ্গলবার ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার পর আশুলিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে পূর্বে দায়ের করা নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তার পরিবার।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে নাহিদকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পান তার স্বজনরা। নিখোঁজ হওয়ার দিন সে রবি কসাই নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪০০ টাকা নিয়ে নিজের ইচ্ছাতেই বাসা থেকে পালিয়ে চলে গিয়েছিল।
এর আগে গত ১ জুলাই রাতে নিখোঁজ নাহিদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, ২৯ জুন রাতে আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বা পর্তুগাল সমর্থকদের তর্কের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তারা আরও দাবি করেছিলেন, কয়েকজন যুবক মিলে নাহিদকে মারধরের পর তার লাশ বালুর নিচে পুঁতে রেখেছে। এই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নিহতের স্বজনরা আশুলিয়া থানায় একটি জিডি করেন। এরপর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশের একাধিক টিমও ঘটনাস্থলে গিয়ে বালুচরে তল্লাশি চালায়। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমেও তখন এই ‘হত্যা ও গুমের’ খবরটি প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানায়, কিশোরটি খুন বা গুম হওয়ার যে অভিযোগটি করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ছেলেটি নিজেই বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। তাকে জীবিত উদ্ধারের পর বাবা মোস্তাক প্রথমে তাকে লালমনিরহাটের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসে তারা আইনি প্রক্রিয়া শেষ করেন।