ম্যানেজার নিয়োগ দেবে বিকাশ, কর্মস্থল ঢাকা

আগের সংবাদ

সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুই বসতঘর পুড়ে ছাই

পরের সংবাদ

আশুলিয়ায় এক মাসে মাদকের ২২ মামলা, গ্রেপ্তার ৩০!

হাসান ভুঁইয়া

প্রকাশিত :১১:৩১ অপরাহ্ণ, ০২/১২/২৫

ঢাকার আশুলিয়ায় বিপদজনক হারে বেড়েছে মাদকের আগ্রাসন। প্রায় প্রতিটি অলিগলিতে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদকদ্রব্য। যদিও প্রায় প্রতিদিনই মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।

আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে গত নভেম্বর মাসে ২২টি মামলায় অন্তত ৩০জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। যাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অনেকের নামে একাাধিক মাদক মামলাও রয়েছে।

আশুলিয়া থানায় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের নভেম্বর মাসে অন্তত ২৭টি অভিযান পরিচালনা করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। যার মধ্যে থানা পুলিশ ১২টি অভিযান পরিচালনা করেন। যে অভিযান ১৩ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ২ হাজার ১৪৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, সাড়ে ১১টার লিটার দেশীয় চোলাই মদ ও ৫৫০ গ্রাম হোরাইন উদ্ধার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আশুলিয়া থানাধীন এলাকায় ১২টি অভিযান পরিচালনা করেন। এ সকল অভিযানে অন্তত ১৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ৭৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা। এছাড়াও র‌্যাবের একটি অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের নিকট থেকে ১ হাজার ৪৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তার দুইটি অভিযান পরিচালনা করে ২জনকে গ্রেপ্তার করে। যাদের হেফাজত থেকে ১ হাজার ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এই ২২টি মাদক মামলার তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, গত মাসে বিভিন্ন বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার ৩০ জন মাদক কারবারির হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ১১ লিটার দেশীয় চোলাই মদ, ৫৫০ গ্রাম হেরোইন, ৫ হাজার ৪৩৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা।

বিভিন্ন বাহিনীর এমন অভিযানের পরেও ঠেকানো যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার। তাই তো মাদকের এমন রমরমা কারবার দেখে তরুণসমাজ নিয়ে চিন্তায় সচেতন মহল।

সমাজে মাদকের এমন ভয়াল থাবার বিষয়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর মুহাম্মদ ইসলাম উদ্দিন বলেন, মাদক সামাজিক একটা ব্যাধীতে রুপ নিয়েছে। এর ভয়াবহতা চরম আকার ধারন করেছে। এতে আমরা আসলে বিচলিত। মাদক থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, স্কুল, মসজিদ ও সামাজিক পর্যায়ে মাদকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করা। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুবসমাজকে যুক্ত করা এবং ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। সেই সাথে সন্তান কোথায় যায়, কার সাথে মিশে- এসব খেয়াল রাখা, তাদের সাথে ভালোবাসা ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা। পাশাপাশি মাদক সেবন বা বিক্রিয়ের খবর পেলে সাহসের সাথে প্রতিবাদ করা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ কেমন ভূমকিা পালন করছে জানতে চাইলে? আশুলিয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, আমরা সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। মাদকের ক্ষেত্রে কোন ছাড় নেই। আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি মাদক নিয়ন্ত্রণ করে আশুলিয়াকে অপরাধ মুক্ত করতে।

মাদকের ব্যাপারে স্থানীয়রা যদি নির্ভরযোগ্য তথ্য দেন অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আশুলিয়া থানায় অন্তত ৮৮টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার আসামির সংখ্যা ১১৮ জন। এ সময় মাদক কারবারির হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ১৬৬ লিটার ৫০০ মিলি দেশীয় চোলাই মদ, ৭ হাজার ৮০০ লিটার জাওয়া, ৬ বোতল বিদেশী মদ, ৭ বোতল ফেনসিডিল, ৩৮২ গ্রাম হেরোইন, ৪ হাজার ২২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪৮ কেজি ৫৭০ গ্রাম গাঁজা।