জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে শীর্ষ পদ ভিপি পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী প্যানেলের আব্দুর রশিদ জিতু। তবে মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২০টি পদেই বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত শিক্ষার্থী প্যানেল।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ভিপি পদে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী প্যানেলের আব্দুর রশিদ জিতু পেয়েছেন ৩৩৩৪ ভোট। জিএস পদে মো. মাজহারুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৯৩০ ভোট। এজিএস (পুরুষ) পদে ফেরদৌস আল হাসান পেয়েছেন ২৩৫৮ ভোট এবং এজিএস (নারী) পদে আয়েশা সিদ্দীকা মেঘলা পেয়েছেন ৩৪০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন- তারা তিনজনই শিবিরপন্থী প্যানেলের প্রার্থী।
এছাড়া শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হয়েছেন আবু ওবায়দা ওসামা (২৪২৮ ভোট), পরিবেশ সম্পাদক মো. শাফায়েত মীর (২৮১১ ভোট), সাহিত্য সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম (১৯০৭ ভোট), নাট্য সম্পাদক মো. রুহুল ইসলাম (১৯২৯ ভোট), সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. রায়হান উদ্দীন (১৯৮৬ ভোট), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী) মোছা. ফারহানা আক্তার লুবনা (১৯৭৬ ভোট), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ) মো. মাহাদী হাসান (২১০৫ ভোট), তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (২৪৩৬ ভোট), সহ-সমাজসেবা সম্পাদক (পুরুষ) মো. তৌহিদ হাসান (২৪৪২ ভোট), স্বাস্থ্য সম্পাদক হুসনী মোবারক (২৬৫৩ ভোট) এবং পরিবহন সম্পাদক মো. তানভীর রহমান (২৫৫৯ ভোট)— সবাই শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন।
কার্যকরী সদস্য পদেও শিবিরপন্থীদের একচ্ছত্র দাপট দেখা গেছে। পুরুষ পদে মোহাম্মদ আলী চিশতী, মো. আবু তালহা (১৮৫৪ ভোট) ও মো. তরিকুল ইসলাম (১৭৪৬ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। নারী পদে নুসরাত জাহান ইমা (৩০১৪ ভোট), ফাবলিহা জাহান (২৪৭৫ ভোট) ও নাবিলা বিনতে হারুণ বিজয়ী হয়েছেন।
তবে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল্লাহ শেখ জিসান ২০১৮ ভোটে জয় পেয়েছেন এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হাসান কিরন ৫৭৭৮ ভোটে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সমাজসেবা সম্পাদক হয়েছেন গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস)-এর আহসাব লাবিব (১৬৯০ ভোট)।
ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, সদস্য সচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম, সদস্য লুৎফুল এলাহীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২১টি আবাসিক হলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে হলের কেন্দ্রগুলো থেকে ব্যালট বাক্স সিনেট ভবনে আনা হয় এবং রাত ১০টার কিছু পর শুরু হয় ভোট গণনা। এরপর শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত টানা ভোট গণনার পরে নির্বাচন কমিশন গণনা বন্ধ করে জরুরি বৈঠক ডাকে।
এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুনরায় ভোট গণনা শুরু করে। এ সময় নির্বাচন কমিশন থেকে শুক্রবার রাতে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। তবে দুই দফায় আবার সময় বাড়িয়ে আজকে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে।
জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ৬ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ভোটার ৫ হাজার ৭২৮ জন। ভোট পড়েছে ৮ হাজার ৩টি। এটি মোট ভোটের প্রায় ৬৮ শতাংশ।
জাকসুর ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন লড়ছেন। এছাড়া হল সংসদের লড়ছেন ৪৪৫ প্রার্থী।
ছাত্রদের হল ও ভোটার সংখ্যা– আল বেরুনী হল: ২১০ জন, আ ফ ম কামালউদ্দিন হল: ৩৩৩ জন, মীর মশাররফ হোসেন হল: ৪৬৪ জন, শহীদ সালাম-বরকত হল: ২৯৮ জন, মওলানা ভাসানী হল: ৫১৪ জন, ১০ নম্বর ছাত্র হল: ৫২২ জন, শহীদ রফিক-জব্বার হল: ৬৫০ জন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল: ৩৫০ জন, ২১ নম্বর ছাত্র হল: ৭৩৫ জন, জাতীয় কবি নজরুল হল: ৯৯২ জন এবং তাজউদ্দীন আহমদ হল: ৯৪৭ জন।
ছাত্রীদের হল ও ভোটার সংখ্যা– নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল: ২৭৯ জন, জাহানারা ইমাম হল: ৩৬৭ জন, প্রীতিলতা হল: ৩৯৬ জন, বেগম খালেদা জিয়া হল: ৪০৩ জন, সুফিয়া কামাল হল: ৪৫৬ জন, ১৩ নম্বর ছাত্রী হল: ৫১৯ জন, ১৫ নম্বর ছাত্রী হল: ৫৭১ জন, রোকেয়া হল: ৯৫৬ জন, ফজিলাতুন্নেছা হল: ৭৯৮ জন এবং তারামন বিবি হল: ৯৮৩ জন।
জাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে এবার ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে- সহ সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া মোট প্যানেল ছিল ৮টি। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে-বামপন্থি, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রদের সমর্থিত। ছাত্রদের ১১টি ও ছাত্রীদের ১০টি হলে ভোটগ্রহণ হয়, সব মিলিয়ে ২১টি ভোট কেন্দ্র এবং ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছিল।