নিজস্ব প্রতিবেদক, ধামরাই:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহত্তম আনন্দ উত্সব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা আট দিনব্যাপী পালিত হয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ধামরাইয়ে উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এ উৎসব শেষ হলেও রথের মেলা চলবে মাসব্যাপী। গত ৪ জুলাই বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে যে রথ উৎসবের শুরু হয়েছিল, আজ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার ভিতর দিয়ে তা শেষ হলো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বায়রার সভাপতি ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ (এমপি)।
প্রতি বছরের মতো এবারও পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ধামরাই মাধব মন্দির ও রথ মেলা কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- ধামরাই উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাদ্দেছ হোসেন, ধামরাই পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ধামরাই পৌর মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা প্রমুখ।
শুক্রবার সকাল ১০টায় যাত্রাবাড়ীতে রথের সামনে ধর্মীয় নানা আচারের মধ্যে দিয়ে মাধব মন্দিরের প্রধান পুরোহিত উত্তম গাঙ্গুলি ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। পরে বিকেল ৫টায় যশোমাধবের কথিত শ্বশুরালয় যাত্রাবাড়ী মন্দির থেকে মাধব বিগ্রহসহ (মাধব মূর্তি) অন্য বিগ্রহগুলো নিয়ে রথের ওপর স্থাপন করা হয়। পরে শ্রী শ্রী যশোমাধবকে শ্বশুরালয় যাত্রাবাড়ী মন্দির থেকে ভক্তরা টেনে নিয়ে যায় পূর্বের স্থান বাবার বাড়ি ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়া রথখোলায়। এসময় হাজার হাজার নারী-পুরুষ চিনি-কলা ছিটিয়ে যশোমাধবের প্রতিমাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সকালে উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং মন্দির নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময় বিভিন্ন মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান মালা। এর মধ্যে ছিল- হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণ, পদাবলী কীর্তন, আরতি কীর্তন ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ।
এবারের মেলায় দেশ খ্যাত অলিম্পিক সার্কাস দল, নাগরদোলা, নাচ, গান, এবং হরেক রকম সৌখিন জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মেলায় বাঁশের বাঁশি, ছোট বড় কাঠের ঘোড়া, পুতুল, হস্ত শিল্প ও ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী তামা-কাঁসা শিল্পের তৈজসপত্রের স্টলও বসেছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় সাড়ে ৪শ’ বছরের প্রাচীন ধামরাইয়ের এই রথযাত্রা উৎসব ও মেলা। ধামরাইয়ের রথযাত্রা ও মেলার রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস। এখানে রয়েছে মাধব মূর্তি। ধামরাইয়ে মাধব মূর্তিকে কেন্দ্র করে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও মেলা। বাংলা ১০৭৯ সাল থেকে এ অঞ্চলে রথযাত্রা ও মেলা উৎসব পালিত হয়ে আসছে।
ভারতের পুরি ও মাহেশের রথের পরেই উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধামরাইয়ের এই রথ উৎসবকে কেন্দ্র করে রথ উৎসবের শুরু থেকেই সাধারন মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতি দিন হাজার হাজার ভক্ত আগত দর্শকদের ভীড়ে মেলাঙ্গন জমজমাট। রথ মেলাকে কেন্দ্র করে মেলাঙ্গন জুড়ে বসেছে সহস্রাধিক বিভিন্ন শ্রেণীর ষ্টল।