ঢাকার ধামরাইয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষন মামলার প্রধান আসামি রিফাত হোসেন ওরফে স্বপন (২০)কে আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৪ সিপিসি-২ এর কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ নাজমুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার বিকালে আশুলিয়ার শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রিফাত হোসেন ওরফে স্বপন (২০) ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে।
র্যাব জানায়, কিছুদিন পূর্বে ওই ভুক্তভোগী কিশোরী তার চাচির সঙ্গে চাচির বাবার বাড়িতে ঘুরতে গেলে রিফাত হোসেন ওরফে স্বপন (২০) তাকে দেখে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। ভুক্তভোগী প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মাঝেমধ্যেই ছেলেটি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসার পথে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব প্রদান করাসহ উত্যক্ত করে আসছিল। পরে ওই কিশোরী বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তার পরিবার উত্যক্তকারী ছেলেটির পরিবারকে অবগত করে। এতে উত্যক্তকারীর পরিবার তার ছেলেকে শাসন না করে উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারকে বিভিন্ন রকম হুমকি প্রদান করে।
পরবর্তীতে গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ভুক্তভোগী কিশোরী তার নিজ বাসা হয়ে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং সূয়াপুর সিএনজি স্ট্যান্ডের মোড়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল। এমতাবস্থায় অপহরণকারী মাইক্রোবাসযোগে তার কয়েকজন সঙ্গীসহ উক্ত স্থানে এসে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপহরণকারী মোবাইলের মাধ্যমে কিশোরীর মাকে জানায় সে তার হেফাজতে রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবী অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। পরে এ ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই র্যাব-৪ এর আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীকে অপহরণের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আশুলিয়ার শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারী রিফাত হোসেন ওরফে স্বপন(২০) কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৪ সিপিসি-২ এর কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ নাজমুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ধামরাই থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।