ঢাকার আশুলিয়ায় মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৩৭ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) ভোর রাতে মাদ্রাসার উপ-পরিচালক সৈয়দ সানজিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে গত ৯ মার্চ বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুরস্থ ‘তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা’য় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার আসামীরা হলেন- আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর মিয়া ও ঢাকা জেলা তাঁতী দলের সভাপতি জাকির হোসেন, জহরিুল ইসলাম (৪৭), আব্দুল আলীম (৩২), আবু তাহের (৪০), হাবিবুর রহমান (৫২), মারুফ হোসেন মকুল (৫৫), ডাক্তার সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ (৬০), মোঃ সজল (৩২), আজাহার (৪৮), সমির (৩০), সোহাগ (৩৫), সোলেমান (৪০), শরীফ শিকদার (৪৮), রুবেল (৩৮), মোঃ শাকিল (২২), লিটন প্রামানিক (২৮), সোহেল (২৮), রিপন মিয়া (৪৫), মোশারফ হোসেন (৪০), আবু তাহের দেওয়ান (৩৫), শামিম (৪৫), মাহে আলম (৫২), নাসির (৪০), মামুন (৩৫), মাসুদ (৪৮), আনিছ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩৫), গোলাপ (৪২), কউছার (৩০), সেলিম রেজা (৪২), রাজিব (৪৫), সিয়াম (২২), রনি (২৬), জামিল (২৫), হৃদয় মন্ডল (২৮) ও জামাল হোসেন (৩৩)। তারা সবাই আশুলিয়ার ভাদাইল, মধুপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়- আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল গফুর দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার উপ-পরিচালক সৈয়দ সানজিদের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা না দিলে মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণাধীন কাঁচামালের আড়ত ও পাইকারি কাপড়ের মার্কেট জোরপূর্বক দখল করার হুমকি দেন তিনি। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে আব্দুল গফুরের নির্দেশে অপর অভিযুক্তরা সহ ৫০-৬০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় অনধিকার প্রবেশ করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, লোহার রড, রামদা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে মাদ্রাসার মূল ফটক, ২০টি অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা, জানালার থাই গ্লাস ও পানির ট্যাংকি ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে মাদ্রাসার উপ-পরিচালক সৈয়দ সানজিদ এবং নিরাপত্তারক্ষী জজ মিয়া, কাজী দীন মোহাম্মদ, নজরুল, সবুজসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করা হয়। একপর্যায়ে সজল নামের এক অভিযুক্ত তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে বাদী সৈয়দ সানজিদকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। তবে তিনি দ্রুত সরে যাওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির খবর পেয়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
চাঁদাবাজি ও হামলার সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, “মাদ্রাসায় যখন হামলার ঘটনা ঘটে, তখন আমি আর আশুলিয়া থানার ওসি আমাদের অসুস্থ এমপি সাহেবকে দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা ওখানেই ছিলাম”।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।