ফরিদগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

আগের সংবাদ

অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিয়োগ দেবে প্রাণ গ্রুপ, লাগবে স্নাতক পাস

পরের সংবাদ

আশুলিয়ায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা মামলা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত :৭:৫৭ অপরাহ্ণ, ০৪/১১/২৫

আশুলিয়ায় থানার অফিসার ইনচার্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠা নানা দূর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ভাবে মিথ্যা চুরির মামলা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৪ নভেম্বর) দুপুরে খোদ নিজে মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান।

এর আগে শনিবার রাতে আশুলিয়া থানায় নাছরীন আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামি দুই সাংবাদিকরা হলেন- অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ বুলেটিনের নিজস্ব প্রতিবেদক ও আশুলিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আসলাম হাওলাদার (সাকিব আসলাম) এবং সকালের সময় পত্রিকার আশুলিয়া প্রতিনিধি সুফি সুমন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মামলার ১নং আসামি সাংবাদিক সফি সুমন মামলার বাদী অ্যাডভোকেট নাছরিন আক্তারকে ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তার প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিছু ছবি ও ভিডিও দিয়ে তাকে ব্লাকমেইল করতে শুরু করে এবং তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি প্রদান করেন।

সর্বশেষ গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে বাদী পলাশবাড়ি এলাকায় চেম্বারে বসে কাজ করার মামলার দুই আসামী তার অফিসে প্রবেশ করে দামকি দেয়। এ সময় ১নং আসামী বাদীকে বলে “তোকে আমি ভালোবাসি, তুই আমার সাথে চল, না গেলে তোকে দৌলতদিয়া পাঠায় দিবো” বলে হুমকি প্রদান করে এবং তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে ২নং আসামী বাদীর হাতে থেকে ৩টি আংটি ও গলার ১ বরি ওজনের ছিড়ে নিয়ে যায় এবং ওড়না ধরে শ্লীলতাহানি করে।

পরে বাদী পুলিশে ফোন দিলে যাওয়ার আসামীরা যাওয়ার সময় বাদীকে বলে-“তোর এই অফিসে দুইবার কইরা চুরি-ভাংচুর আমরাই করাইছি, আমাদের লোকজনই করছে, তুই তো পারলি না কিছু করতে, পারবিও না, তোকে আমরা অত্র আশুলিয়াতেই থাকতে দিমু না, পারলে কিছু করিস”। এ ঘটনা উল্লেখ করে বাদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন এবং পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।

অন্যদিকে মামলা বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান করছিলেন সাকিব আসলাম ও সুফি সুমন। তার সতত্যা পাওয়ার পর বক্তব্য জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট নাছরীন আক্তার বাধী হয়ে পূর্বের দায়েরকৃত একটি অভিযোগ কোনো রকম প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মামলায় নথিভুক্ত করেন।

এদিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কিভাবে কোনো রকম প্রাথমিক সত্যতা যাচাই না করেই দ্রুত মামলাটি নথিভুক্ত করলেন, তা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল এবং সচেতন নাগরিক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সাংবাদিক সুফি সুমন অভিযোগ করে বলেন, তারা নাছরীন আক্তার অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে ওঠা ভূমি জালিয়াতি ও দখলদারিত্বের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়ায়, নেত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে ‘চুরির’ মতো মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছেন। তারা দাবি করেন, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতাকে রুদ্ধ করার একটি অপচেষ্টা।

​এ বিষয়ে সাংবাদিক আসলাম হাওলাদার সাকিব বলেন, ওনার চেম্বারে যাওয়া তো দূরের কথা এই মামলার বাদীর সাথে আমার কোনোদিন সামনা-সামনি দেখাও হয় নাই। তাছাড়া মামলা এজাহারে ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে গত মাসের ১১ তারিখ এবং সময় উল্লেখ করা হয়েছে সকাল ৯ টা। আমি ক্যালেন্ডার চেক দিয়ে দেখেছি সেদিন ছিল শনিবার, সরকারি বন্ধ। বন্ধের দিন এসিল্যান্ড অফিসের পাশে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আর সকাল নয়টায় তো আমি বাসায় ঘুমে ছিলাম। আমার মোবাইলের লোকেশন বের করলেও সেটা দেখা যাবে।

তাহলে মামলা দেওয়া হল কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার বাদী আওয়ামী নেত্রী নাছরিন ঢাকা জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আইন বিষয়ক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করেছেন। তাছাড়া উনি গোপনে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি এই বিষয় নিয়ে নিউজ করায় আমার বিরুদ্ধে উনি মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। তাছাড়া বর্তমান ওসির বিভিন্ন  অপকর্ম নিয়ে আমি ওসির বক্তব্য চেয়েছি। তাই ওসি সাহেব ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেছে।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট নাছরীন আক্তার বলেন, আশুলিয়া থানায় আমি বেশ কয়েকটি মামলা করেছি। সম্প্রতি যে মামলা হয়েছে, সে বিষয়ে যেখানে থেকে তথ্য পেয়েছেন সেখানে থেকে তথ্য নেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আজগর হোসেনের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে চাইনা। অফিসিয়াল ভাবে কোন অনুমতি নেই।