বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সাভারের তৎকালীন সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন ও পুলিশ একত্রিত হয়ে আশুলিয়ার বাইপাইলে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। এতে ২০–২৫ জন ছাত্র-জনতা নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের সপ্তম সাক্ষী ফল ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
অন্য দুই সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আশুলিয়ার বাইপাইল বগাবাড়ি বাজারের ফল ব্যবসায়ী শফিকুল জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলনের সময় তিনি তার বড় ভাই নাজমুলের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন। ৪ তারিখ ১০টা-১১টার দিকে বাইপাইল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার দিকে মিছিল নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার সময় দেখেন স্থানীয় এমপি সাইফুলের লোকজন সেখানে অবস্থান করছেন। তারা সেখান থেকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকেন এবং বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। তখন আন্দোলনকারীরা বাইপাইলের দিকে ফেরত আসতে থাকেন। তখনও হামলাকারীরা তাদের দিকে গুলি ছুড়তে থাকে। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত গুলি করা হয়। এতে এক আন্দোলনকারী মারা যান এবং অনেকে আহত হন।
শফিকুল আরও বলেন, ৫ তারিখে আমরা বাইপাইল থেকে নবীনগরের দিকে যেতে থাকি। যাওয়ার পথে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এমপি সাইফুল তার লোকজন নিয়ে অবস্থান করে আমাদের ওপর গুলি ছোড়ে। তখন আনুমানিক দুপুর ১টা। সাইফুল এমপির সঙ্গে তার লোকজন ও পুলিশ বাহিনী একত্রিত হয়ে বাইপাইল এলাকায় এসে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি বর্ষণ করে। এতে ২০-২৫ জন ছাত্র-জনতা নিহত এবং অনেকে আহত হয়। সেখানে আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করি।
শফিকুল ইসলাম এ ঘটনায় এমপি সাইফুল, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি, অন্যান্য পুলিশ সদস্য ও সাইফুলের লোকজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলার কার্যক্রম বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ, তাকে সহযোগিতা করেন অন্য প্রসিকিউটররা।
সূত্র- জাগো নিউজ