মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে নৌবাহিনীর জাহাজ মেঘনা সর্ব সাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের পুরাতন লঞ্চঘাট সংলগ্ন বিআইডাব্লিউটিএ ঘাটে জাহাজটিতে পরিদর্শনে আসেন শহর ও আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোর ও বিভিন্ন বয়সি লোকজন।
চাঁদপুর শহরের তালতলা এলাকার ফুটবলার জাহাঙ্গীর গাজী জানান, আসলে অনেক জাহাজ আমাদের নদীতে চলে। কিন্তু জাহাজের ভিতরে প্রবেশ করে দেখার সুযোগ হয় না। স্বাধীনতা দিবস হওয়ার কারণে জাহাজের অনেক কিছু দেখার সুযোগ হয়েছে। জাহাজ দেখার জন্য শিশু-কিশোর অনেকেই এসেছেন। তবে এখানে দেখার জন্য শৃঙ্খলা মানতে হয়।
জাহাজে দায়িত্বরত লে. কমান্ডার মাহমুদ জানান, মংলা বন্দর থেকে ২৪ মার্চ দুপুরে চাঁদপুর বিআইডাব্লিউটিএ ঘাটে জাহাজটি আসে। আজকে সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এ সময় বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনসাধারণ জাহাজ ও মেরিটাইম মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখেন। সোমবার সকালে আবার মংলা বন্দরের উদ্দেশে জাহাজ নিয়ে রওনা হব।
তিনি আরও জানান, এই জাহাজের দায়িত্বে রয়েছেন অধিনায়ক মহসিন রেজা। এটি একটি উপকূলীয় টহল জাহাজ। এটি নদী এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে টহল প্রদান, উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান রোধ, জলদস্যুতা দমন, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৃহীত আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার সিঙ্গাপুর থেকে বানৌজা মেঘনা জাহাজটি ক্রয় করে। ১৯৮৪ সালের ১৯ জানুয়ারি জাহাজটিকে প্রথমবারের মতো পানিতে ভাসানো হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে জাহাজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করে।
শত্রু জাহাজ মোকাবেলা, চোরাচালান রোধ, জলদস্যুতা দমনে জাহাজটিতে রয়েছে- ১টি ৫৭ মিলিমিটার বোফোর্স ডিপি কামান, ১টি ৪০ মিলিমিটার বোফোর্স বিমান বিধ্বংসী কামান, ২টি ৭.৬২ মিলিমিটার মেশিনগান। ৫৭ মিলিমিটার বোফর্স ডিপি কামানটি প্রতি মিনিটে ২.৪ কেজি ওজনের ২০০টি গোলা ১৭ কিলোমিটার দূরত্বে নিক্ষেপ করতে সক্ষম। ৪০ মিলিমিটার বোফোর্স কামানটি প্রতি মিনিটে ৩০০টি ০.৯৬ কেজির গোলা ১২ কিলোমিটার দূরত্বে নিক্ষেপ করতে সক্ষম।