সাভারে ককটেল ফাটিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৮

আগের সংবাদ

আশুলিয়ায় তালাকের জেরে বহিরাগতদের নিয়ে সাবেক স্ত্রীর হামলা: ১০ লাখ টাকা লুট ও দোকান তালাবদ্ধের অভিযোগ

ইস্কান্দার হোসাইন রুদ্র

প্রকাশিত :৮:০৪ অপরাহ্ণ, ১৫/০৯/২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় দাম্পত্য কলহ ও তালাকের জেরে সাবেক স্বামী ও শ্বশুরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে নগদ ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট এবং দোকান তালাবদ্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দেওয়ায় কর্মচারীদের পিটিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আব্দুল কুদ্দুস মোল্যা (৬৬) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বাবা।

এর আগে গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খান হোটেলের পাশে ‘জে. আলম’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত হলো- জাহাঙ্গীর আলমের সাবেক স্ত্রী মোছাঃ কামনা আক্তার অনামিকা (২৩) ও সেলিম রেজা (৩৫) সহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় গত ২৭ আগস্ট স্ত্রী কামনা আক্তার অনামিকাকে তালাক দেন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। তালাক দেওয়ার পর থেকেই অনামিকাসহ তার সহযোগীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জেরে সোমবার দুপুরে আব্দুল কুদ্দুস মোল্যা ও তার কর্মচারীরা দোকানে অবস্থানকালে অনামিকা ও সেলিম রেজাসহ ১০-১২ জন বহিরাগত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে আব্দুল কুদ্দুস ও কর্মচারীদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত অনামিকা ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করে নেয় এবং দোকান থেকে বের করে সাটার তালাবদ্ধ করে দেয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস মোল্যা জানান, ছেলের সাথে তালাকের পর থেকেই অভিযুক্ত অনামিকা তাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল। হঠাৎ বহিরাগত লোকজন নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে নগদ টাকা লুট ও দোকান তালাবদ্ধ করে দেওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

হামলায় আহত দোকানের কর্মচারী মোশারফ হোসেন বলেন, ১০ থেকে ১২ জন লোক এসে আমাদের মারধর করে দোকান থেকে বের করে দেয়।

আরেক কর্মচারী নূর নবী বলেন, হামলাকারীরা সিসিটিভি বন্ধ করে আমাদের মারধর করে এবং আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল ফোনে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি রেকর্ড করে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কামনা আক্তার অনামিকা বলেন, দোকানটির চুক্তি আমার নামে করা। সেখানে লুট করতে নয়, বরং সংসার খরচের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা লুটপাট ও হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আমীন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা
এই বিভাগের সর্বশেষ