আকিজ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পদে চাকরির সুযোগ

আগের সংবাদ

পাকিস্তান সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা

পরের সংবাদ

কৃষি ঋণ আদায় বাড়লেও বিতরণে ব্যাংকগুলোর অনীহা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত :৫:৩৮ অপরাহ্ণ, ১৭/০৭/২৫

দেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ এখনও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি খাতে উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে ঋণের চাহিদাও। কিন্তু এই খাতে ঋণ বিতরণে এখনও ব্যাংকগুলোর মধ্যে আগ্রহের ঘাটতি রয়েছে- এমন চিত্রই উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, (২০২৪-২০২৫) অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ হয়েছে ৩২ হাজার ২১১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ ছিল ৩৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কৃষি ঋণ বিতরণ কমেছে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা।

তবে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র। একই সময়ে কৃষি খাত থেকে আদায় বেড়েছে ১ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। (২০২৪-২০৩৫) অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ব্যাংকগুলো কৃষি ঋণ আদায় করেছে ৩৩ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরে আদায় হয়েছিল ৩২ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা।

বন্যা-দুর্যোগেও বাড়ছে আদায়

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা ও দুর্যোগে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হলেও ঋণ পরিশোধে তারা পিছিয়ে পড়েননি। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও কৃষকদের ঋণ ফেরত দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা ইতিবাচক ইঙ্গিত।

মাসিক ভিত্তিতে ঋণ বিতরণে ইতিবাচক প্রবণতা

মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ কিছুটা বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ ছিল ৩ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা, যা মে মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৮৭২ কোটি টাকা।

ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে মোট বিতরণযোগ্য ঋণের কমপক্ষে ২ শতাংশ কৃষি খাতে দিতে হবে। এই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানার মুখে পড়তে হয়।

এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষুদ্র ঋণদাতা সংস্থার (এমএফআই) ওপর নির্ভরতা কমাতে, কৃষি ঋণের অন্তত ৫০ শতাংশ নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৩০ শতাংশ।

৭২০০ কোটি টাকার কৃষি ঋণ লক্ষ্যমাত্রা

(২০২৪–২০২৫) অর্থবছরের জন্য ঘোষিত কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালায়, মোট ৭২০০ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপ্রাপ্ত ফসল যেমন, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ভুট্টা- এগুলোর জন্য রেয়াতি সুদে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭২ কোটি টাকা (লক্ষ্যমাত্রার ১ শতাংশ)।

কৃষি ঋণ নীতিমালায় এবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে শহরাঞ্চলের ছাদবাগান। বাড়ির ছাদে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ফুল, ফল ও সবজির চাষকে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের নগর কৃষিকেও ঋণ সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে।