গাজীপুরে হাত-পা বাঁধা যুবককে খাদে ফেলে পালারো দুর্বৃত্তরা

আগের সংবাদ

চলন্ত বাইকে নিয়ে যাচ্ছিলেন নারীর মরদেহ

পরের সংবাদ

৫০০ টাকা না পেয়ে ঘুমন্ত বড়ভাইকে কুপিয়ে হত্যা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত :৫:৫৫ অপরাহ্ণ, ১১/০৮/২৫

রাতে বড় ভাইয়ের কাছে ৫০০ টাকা চাওয়ায় টাকা না দিয়ে গালিগালাজ করায় সকালে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘুমন্ত বড়ভাইকে ধারালো দা দিয়ে ঘাড়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে ছোট ভাই।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এমনই লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে ঘাতক ছোট ভাই। গত ৯ আগস্ট শনিবার সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে সংঘটিত একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট সকালে নিজ বসতঘরে আব্দুর রহিম রাফি (২৬) নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে পরদিন ১০ আগস্ট কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গোপন সোর্স, তথ্য প্রযুক্তি, এলাকাবাসীর বক্তব্য এবং আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় নিহতের ছোট ভাই আব্দুল করিম রোহান (১৬) কে সে দিনই (৯ আগস্ট) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী এবং আশেপাশের মানুষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গত (১০ আগস্ট) সে তার ভাইকে ঘুমের মধ্যে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় ঘাতক রোহানের তথ্যমতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা এবং রক্তমাখা লুঙ্গি ঘরের খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক ছোটভাই জানায়, ঘটনার আগের দিন গত ৮ অগস্ট রাতে তার বড়ভাই নিহত রাফির কাছে সে ৫০০ টাকা চায়। রাফি ছোট ভাইকে টাকা না দিয়ে গালিগালাজ এবং দুর্ব্যবহার করে। পরের দিন শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘাতক ছোট ভাই দেখে তার মা বাড়িতে নাই। অপরদিকে বাড়িতে স্ত্রী না থাকায় সেদিন রাফির ঘরের সব দরজাও খোলা ছিল। বাড়িতে কেউ নেই আর রাফি ঘুমিয়ে ছিল- এই সুযোগে আগের রাতের ঘটনায় ভাইয়ের উপর রাগের বশবর্তী হয়ে খাটের নিচে থাকা ধারালো দা দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় বড়ভাই রাফিকে ঘাড়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে।

ঘাতক ছোট ভাই আরও জানায়, হত্যার পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা বেসিনে ধুয়ে পরিষ্কার করে পুনরায় খাটের নিচে রেখে দেয় এবং তার পরনে থাকা রক্তমাখা লুঙ্গিও খাটের নিচে রেখে দেয়। ঘটনার পর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে থাকে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নিহত রাফির বিয়েতে তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন কারোরই মত ছিল না। বিয়ের পর থেকে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে নিহত রাফির স্ত্রীর সঙ্গে তার মা ও ছোট ভাইয়ের কিছু টানাপোড়নের তথ্যও পায় পুলিশ। বিয়ের এতদিনেও যেটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি। অপরদিকে রাফি চাইতো তার ছোট ভাই বাড়িতে না থেকে মাদরাসায় থেকে পড়াশোনা করবে। কিন্তু তার ভাই ঘাতক রোহান মাদরাসায় না থেকে বাড়িতেই বেশী থাকত।

এসব কারণে অভিভাবক হিসেবে বড় ভাই রাফি প্রায়ই তার ছোট ভাইকে শাসন করত। কিন্তু বড় ভাইয়ের শাসন সে মেনে নিতে না পারায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়গুলো নিয়ে বড় ভাইয়ের উপর ক্ষোভ বাড়তে থাকে। যেটা শেষ পর্যন্ত হত্যার মাধ্যমে শেষ হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসিফ মহিউদ্দীন।

এই বিভাগের সর্বশেষ