তদন্ত কমিটির কাছে যুগ্ম সচিবের তথ্য গোপন

আগের সংবাদ

সচল হলো হিলি চেকপোস্টের সার্ভার

পরের সংবাদ

নাটোরে আ. লীগ- বিএনপি সংঘর্ষে আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত :১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, ০২/০৪/২৩

নাটোরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ দফা দাবিতে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়।

ঘটনার সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছিলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল ছোড়া ও মারপিটের ঘটনা ঘটে।

মারপিট ও ইটের আঘাতে কাফুরিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, যুবদল নেতা রনি ব্যাপারী গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। আহতদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম শরিফ ও রনি ব্যাপারীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিপ্লব ও নাটোর শহর যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সায়েম হোসেন উজ্জলসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। রুহুল আমিন বিপ্লব ও সায়েম হোসেন উজ্জল নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মারপিটের পর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী নাটোর উপশহর মাঠে মঞ্চ তৈরির সময়ই বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা করে ভাঙচুর শেষে মঞ্চে অগ্নিসংযোগ করে। শান্তি রক্ষার জন্য তারা উপশহর মাঠ ছেড়ে দিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে খুব সংক্ষিপ্ত পরিসরে অবস্থান ধর্মঘট করে।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের অবস্থান ধর্মঘটে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধান অতিথি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বড় মিছিলসহ বিএনপি অফিসের দিকে আসতে থাকে। নাটোর বিদ্যুৎ অফিসের সামনে পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাধা দেয়। তারা পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা করে। জেলা বিএনপির কার্যালয় ও দুলুর বাসভবনে এ সময় ব্যাপক ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলাকারীরা। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও মারপিটের ঘটনা ঘটে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু, সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ, জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাবেক এমপি অধ্যাপক কাজী গোলাম মোর্শেদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শাহ আলম ও সদস্য ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহিন।

শহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজের অবস্থান ও ক্ষমতা জানান দিতে বিএনপির ওপরে একের পর এক হামলা করছে।

সংঘর্ষের সময় শহিদুল ইসলাম বাচ্চু নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছেন বলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান বলেছেন, তাদের পূর্ব নির্ধারিত নাটোর উপশহর মাঠের শান্তি সমাবেশ করার জন্য তারা মিছিলসহ যাওয়ার সময় নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশি বাধার কারণে সেখানেই তারা শান্তি সমাবেশ করছিলেন। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীরা এসে শান্তি সমাবেশে ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা করে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু ও সদস্য ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহিন অস্ত্র দিয়ে গুলি করে। তিনি শহিদুল ইসলাম বাচ্চু ও ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহিনকে গ্রেফতারের দাবি জানান।

এদিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোরের বাসা ছেড়ে চলে যান। এ সময় দুলু বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বিএনপি অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল। সেখানে তিনি বক্তব্য রাখার সময় শান্তি সমাবেশের নামে আওয়ামী লীগ হামলা করে তাদের অনেক নেতাকর্মীকে আহত করেছে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানান।

ঘটনার পর থেকে নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমিন নেলি, ডিবির ওসি আবু সাদাত ও নাটোর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ টি এম মাইনুল ইসলাম বলেন, শহরের আলাইপুর এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুদলের পক্ষ থেকেই সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছিল। সমাবেশ চলাকালে দুপক্ষই ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলি ছোড়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন।