আশুলিয়ায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে চলছে সাপলুডু খেলা

Print Friendly, PDF & Email
হাসান ভূঁইয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার উপকন্ঠ শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া একটি জনবহুল এলাকা। মানুষ কাজের সন্ধানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে পাড়ি জমান এই শিল্পাঞ্চলে।  সম্প্রতি এই শিল্পাঞ্চলে অবৈধ্য গ্যাস সংযোগ নিয়ে চলছে সাপলুডু খেলা। রাতের আধারে নিম্ন মানের পাইপ দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে কিছু অসাধু গ্যাস কারবারীরা। অন্যদিকে কিছুদিন পর পর তিতাসগ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এই লাইন কাটলেও পুনরায় সংযোগ দিয়ে দিচ্ছে এই অবৈধ্য গ্যাস সিন্ডিকেট।
অবৈধ্য গ্যাস সংযোগ এর ফলে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব হারালেও রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেছেন এই গ্যাস সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য। রাতের আধারে নিম্ন মানের পাইপ দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ায় প্রায় ঘটছে মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটনা। এছাড়াও এর ফলে বৈধ্য গ্যাস সংযোগ গ্রহণকারীরা পাচ্ছে না তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবারহ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশুলিয়ার মোল্লা বাজার, চিত্রশাইল, কান্দাইল, মৃধাপাড়া ও ঘোষবাগ এলাকার প্রায় সব কয়টি বাড়িতেই রয়েছে অবৈধ্য গ্যাস সংযোগ। অথেচো এই অবৈধ্য গ্যাস লাইন গুলো মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে বিছিন্ন করেছিলো তিতাস কর্তৃপক্ষ। এ সময় কয়েকজন বাড়ি মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা এলাকার প্রভাবশালীদের নিটক হতে ২০-৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিয়েছেন এই অবৈধ্য সংযোগ। শুধু এখানেই নয় এত টাকা দিয়ে লাইন নেওয়ার পরেও বৈধ লাইনের ন্যায় প্রতিমাসে নিয়মিত গ্যাস বিল দিতে হয় এই অবৈধ গ্যাস সংযোগের।
এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারীদের সাথে তিতাসগ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও মন্তব্য করছে অনেকেই। তবে বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাক্ষাণ করেছেন, সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম।
এ ব্যাপারে আবু সাদাত মোঃ সায়েম বলেন, আপনাদের কাছে বার বার তিতাসের সম্পকৃততার প্রশ্ন শুনে আমি বিব্রতবোধ করি, কে জরিত, কতটুকু জরিত আপনারা আমার থেকে ভালো জানবেন, যেহেতু আপনারা গনমাধ্যম কর্মী, আপনারা অনেকটা জনগনের কাছ পর্যন্ত যেতে পারেন।  আমি বা আমার কেউ যদি জরিত থাকে, আমরা প্রতিষ্ঠানের কেউ জরিত থাকে অবশ্যই তার পূর্ণাঙ্গ পরিচায় দেন, আমাদের কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাপারে যথাযত আইনি এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবে।
চলমান সাপলুডু প্রক্রিয়ার মত অবৈধ্য সংযোগ দেওয়া ও কাটার ব্যাপারে  তিনি বলেন, এই অবৈধ গ্যাস লাইন গুলো নিয়মিত বিচ্ছিন্ন করছি, নিয়মিত মামলাও হচ্ছে, পুলিশের তদন্ত চলছে, এছাড়াও সরকারী অনেক সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে। তারা এই অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিবে বলে আমরা আশা করছি।
এদিকে গত জানুয়ারী মাসে তিতাসের ৫ দিনের অভিযানে আশুলিয়ার জিরবো ডাক্তার বাড়ি, ঋষিপাড়া, নরসিংহপুর, ঘোষবাগ, টঙ্গাবাড়ি, বেরন, মানিকগঞ্জ পড়াসহ বশে কয়েক এলাকায় প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকার লাইন তুলে প্রায় ১৩ হাজার বাসাবাসির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও দুই জনকে আটক ও একটি কোম্পানিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে আশুলিয়ার চিত্রশাইল, কান্দাইল, মৃধাপাড়া, ঘোষবাগ ও নরসিংহপুর এলাকায় যে কয়েক জন অবৈধ্য গ্যাস কারবারীর নাম উল্লেখযোগ্য তারা হলেন, কান্দাইল এলাকার মোস্তফা মৃধা,  চিত্রশাইল এলাকার বোম জামান, নরসিংহপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম ওরফে গ্যাস সিরাজ, আমিনুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা ও ময়না মোল্লা। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম, ময়না মোল্লা, মোস্তফা মৃধা ও সিরাজুল ইসলাম এর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বেশি রয়েছে।
এ বিষয়ে গ্যাস সিরাজের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, তার মুঠোফোনটি বরাবরই ব্যবস্তা দেখায়। কথা হয় মোস্তফার সাথে।
কান্দাইল এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোস্তফা মৃধা বলেন, যদি এলাকার সবাই বলে তাহলে আমি দিয়েছি, আর নাহলে তিতাসের যে লোকজন আছে তারা দিসে।
আপনি দিয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবাই যদি বলে তাহলে এটা সত্য হতে পারে, আর আমি যদি মনে করি আমি দেই নাই, তাহলে এলাকায় যখন গ্যাস আসছে, তখন এক ধরনের লোকে দিসে, তখন বলছি হ্যা আমাদের গ্যাস দেন, কারণ আমাদের ভাড়া ভাড়বাড়ি আছে, এমন সময় অনেকেই নিছে, তারা আমার সামনে টাকা দিছে, আমি দেখছি, শুনছি, সবি জানি। এ রকম একটা কিছু।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সবাই যদি বলে আমি দিসি, আমি কি গ্যাসের কাজ জানি?, আপনি কোথায় আছেন বলেন, আমি আসি, দেখেন তো আমি এ ধরনের কাজের লোক কিনা?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here