উনি এইচএসসি পাশ করে এখন ডাক্তার

Print Friendly, PDF & Email

হাসান ভূঁইয়া, আশুলিয়া:

জেনারেল শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাশ করে চালাচ্ছেন ফার্মেসী, নাই ড্রাগ লাইসেন্স, নাই ফার্মাসিস্ট, তবুও গত তিন বছর ধরে ওষুধ বিক্রয় করছেন, ডিপ্লোমা কোর্স করে প্রেসক্রিপশন করে রোগিও দেখছেন গত তিন বছর, উনি এখন সকল রোগের ডাক্তার। তিনি আশুলিয়ার দক্ষিন গাজীরচট আরিয়ার মোড় এলাকার মল্লিক সুপার মার্কেটের আল-মোবারক ফার্মেসী এন্ড ডর্ক্টরস চেম্বারের মালিক নামধারী ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান মিলটন।

আল-মোবারক ফার্মেসী এন্ড ডর্ক্টরস চেম্বারের মালিক নামধারী ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান মিলটন নামের আগে ডাক্তার লেখলেও ডিগ্রীর স্থানে লেখেছেন ডি.এম.এফ ও বি.এইচ.এস নামের দুইটি কোর্সের নাম। ফার্মেসীর অন্তরালে চালাচ্ছেন চিকিৎসা সেবার নামে রমরমা ব্যবসা। এ খানেই শেষ নয়, তার ফার্মেসীতে রোগীর রক্তের গ্রুপও নির্ণয় করা হয়। এ ভাবে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। আর এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এই এলাকার জনসাধারণ। আশুলিয়ায় এমনিতেই প্রয়োজন অনুসারে নেই সরকারী হাসপাতাল, আর এ কারনেই এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়ে উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে এ ধরনের প্রতারকরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

মনিরুজ্জামান মিলটন নিজেকে উপ. সঃ কঃ মেডিকেল অফিসার টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বলেও তার নিজ প্যাডে লিখে দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি পাশের দেশ ভারতে ধীর্ঘদিন চিকৎসা পেশার সাথে জরিত ছিলেন বলেও জানান।

এ সময় তার প্রেসক্রিপশন’র ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যেহেতু আমি ডাক্তার সেহেতু প্রেসক্রিপশন করতে পারি। সকল রোগের চিকিৎসাও দিতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, “ আমি প্রথমদিকে নিষিদ্ধ জিনসিন নামক যৌন উত্তেজক ঔষুধ বিক্রয় করার অপরাধে আটক হয়ে ছিলাম, কিন্তু এখনতো কোন অন্যয় করছি না, ডাক্তারি করার যোগ্যতা আছে তাই করছি।”

রক্তের গ্রুপ কিভাবে নির্ণয় করেন জানতে চাইলে তিনি বলে, “আমিতো রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করি না, শুধু রক্ত সংগ্রহ করে রাখি, আমার বন্ধু জহিরুল ইসলাম এসে রক্ত নিয়ে যায়।” পরে জরিহুল ইসলামের মুঠোফোন নাম্বারটি চাইলে তার কাছে নাই বলে অস্বীকার করেন।

এ সময় তিনি আরও জানান, শুধু এখানেই নয়, তিনি আরো কয়েকটা হাসপাতালেও রোগি দেখেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here