হঠাৎ গণবিক্ষোভে কাঁপছে বিশ্ব

Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক: অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অস্থির সময় পার করছে পৃথিবী। একসঙ্গে বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে গণবিক্ষোভ। কোনো কোনো দেশের সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যে তাদের দাবি আদায় করে নিয়েছেন, কোনো কোনো দেশে এখনো ঝরছে রক্ত।

এসব বিক্ষোভের পেছনে একই ধরনের কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছে বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে সামাজিক-অর্থনৈতিক অসমতা, ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি, রাজনৈতিক পরাধীনতা, জলবায়ু পরিবর্তন বিক্ষোভগুলোর অন্যতম কারণ।

চিলি: লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে স্থিতিশীল দেশ হিসেবে পরিচিত চিলি। গণবিক্ষোভের মুখে সেই চিলির মন্ত্রিসভা রবিবার ভেঙে গেছে। জীবনযাত্রার মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়কে কেন্দ্র করে বহুদিন ধরে সেখানে অসন্তোষ জমা হয়। সেই অসন্তোষের আগুনে ঘি ঢেলে দেয় মেট্রোরেলের ভাড়া বৃদ্ধি। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামে চিলির জনগণ।

দশ লাখ মানুষের শান্তিপূর্ণ র‌্যালির পর দেশটির মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিতে বাধ্য হন দেশটির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা।

ইকুয়েডর: জ্বালানি তেলে সরকারি ভর্তুকি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে ইকুয়েডরে বিক্ষোভ করছেন দেশটির জনগণ। বিক্ষোভ দমনে প্রেসিডেন্ট লেলিন মোরেনো ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করতে বাধ্য হন। এতে বিক্ষোভকারীরা আরও চড়াও হলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। অক্টোবরের শুরুতে সেখানে তিনদিনে গ্রেপ্তার হন ৫ শতাধিক বিক্ষোভকারী।

ইরাক:  কর্মসংস্থান ও সরকারি পরিষেবা উন্নত করা এবং দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে চলতি মাসের প্রথম দিকে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরাকে। শুক্র-শনি থেকে শুরু হয়েছে নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচি। এই দুই দিনে সেখানে মারা গেছেন ৪৫ জন সাধারণ মানুষ! ইরাকের জনগণ এখন সরকার পতনের ডাক দিয়েছে।

লেবানন: দুর্নীতি, নিত্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে লেবাননে। ১৮ অক্টোবর বিক্ষোভে দেশটিতে দুই বিদেশি শ্রমিক মারা গেছেন।

এই দেশে বছরের অন্যতম বড় এই বিক্ষোভ শুরু হয় মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিওকলের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্তকে ঘিরে। যদিও প্রতিবাদের মুখে সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে।

বার্সেলোনা: স্পেনের আদালতে স্বাধীনতাকামী নেতাদের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনায় প্রায় পাঁচ লাখ লোক ১৯ অক্টোবর বিক্ষোভে নামে। স্বাধীনতাকামী নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের পর এটি ছিল সবচেয়ে বড় গণসমাবেশ। বার্সেলোনাবাসীর বিক্ষোভের ইতিহাস বেশ পুরোনো। চলতি বছর সেটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

হংকং: চীনে ‘অপরাধী’ বহিঃসমর্পণের সুযোগ রেখে করা প্রস্তাবিত এক আইন নিয়ে হংকং রীতিমতো উত্তাল। গণবিক্ষোভের মুখে ইতিমধ্যে সেই বিলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে হংকংয়ের পার্লামেন্ট। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য থেকে হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় চীন। এরপর এমন সহিংসতা ও বিক্ষোভ দেখেনি শহরটি।

আলজেরিয়া: কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা গণবিক্ষোভের মুখে এপ্রিলের শুরুতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলআজিজ বুতেফিকা। আফ্রিকার বৃহত্তম রাষ্ট্রটিতে গত ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় ছিলেন বুতেফিকা।

সুদান: বেসামরিক ও গণতান্ত্রিক সরকারের দাবিতে সুদানে গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ। শুরুতে সুদানবাসীর আন্দোলন ছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ। শেষ পর্যন্ত এটি শেষ হয় নতুন মেয়াদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পথ সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে।

এসব আন্দোলনের বাইরে মিশরে হয়েছে বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ।

ক্ষমতাবানদের সরাতে প্রচলিত এই আন্দোলনের বাইরে এবার বিশ্ব দেখছে জলবায়ু রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশ। সূত্র:দেশ রুপান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here