বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদ হত্যায় ২ ছাত্রলীগ নেতা আটক

Print Friendly, PDF & Email

ন্যাশনাল ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটক করা হয়েছে।

বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোস্তাকিন ফুয়াদ এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলকে চকবাজার থানা পুলিশ আটক করে বলে ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে।

তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও তাদের নাম-পরিচয় জানাতে চাননি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির লালবাগ জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মোনতাসিরুল ইসলাম।

দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম বলা যাবে না। কেন ওই ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখছি। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, ফাহাদ হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফুয়াদ ও রাসেল নামে দুজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তারা দুজনই বুয়েটের শেরে-বাংলা হলে থাকেন।

এর আগে সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ফাহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। ফাহাদ কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বরকত উল্লাহ ছেলে।

বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু বলেছেন, ‘ফাহাদকে শিবির সন্দেহে রাত ৮টার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তার মোবাইলে ফেইসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করি। ফেইসবুকে বিতর্কিত কিছু পেজে তার লাইক দেওয়ার প্রমাণ পাই। সে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। তার শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাই।’

তিনি বলেন, ‘ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা।’

এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘প্রমাণ পাওয়ার পরে চতুর্থ বর্ষের ভাইদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার সেখানে আসেন। একপর্যায়ে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। এরপর হয়তো ওরা মারধর করে থাকতে পারে। পরে রাত ৩টার দিকে শুনি ফাহাদ মারা গেছে।’

বুয়েটের দায়িত্বরত চিকিৎসক মাসুক এলাহী বলেন, ‘রাতে আমি ডিউটিতে ছিলাম। রাত ৩টার দিকে ছাত্রদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শেরেবাংলা হলের ১ম ও ২য় তলার মাঝামাঝি জায়গায় ফাহাদকে পড়ে থাকতে দেখি। তখন তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here