স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত নেতা সাভার ছাত্রলীগের সভাপতি

Print Friendly, PDF & Email

ন্যাশনাল ডেস্ক: দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হয়েছিলেন আতিকুর রহমান। সোহাগ-জাকিরের নেতৃত্বাধীন কমিটি তাকে বহিষ্কার করলেও ব্যক্তিগত সখ্যতায় তাকে সংগঠনে ডেকে নেন বর্তমান কমিটির সদ্য সাবেক শোভন-রাব্বানী। আতিকুরকে করা হয় সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।

চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা দখলের মতো ঘটনায় অভিযুক্ত আতিকুর ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তারপরও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি পদে আসীন রয়েছেন এই ছাত্রলীগ নেতা। সম্প্রতি পদচ্যুত শোভন-রাব্বানীর আনুকূল্যে তিনি এতদিন বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছ্। আতিকের সঙ্গে গোলাম রাব্বানীর ঘনিষ্ঠ অনেক ছবি শোভা পেত নানা জায়গায়।

জানা যায়, ঝুট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সভায় বিবাহের তথ্য গোপন করার দায়ে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আতিককে কেন বহিষ্কার করা হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

একই বছরের ১৬ মে সাভারের উলাইলে বাজারের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলরের সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও আহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২১ মে  ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সভায় আতিকুর রহমানকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

আতিকুরের বিরুদ্ধের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল নবী ইমু। তিনি বলেন, ‘আমি সভাপতি হিসেবে দায়িত্বকালীন সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান বিবাহিত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক এসআইকে মারধরের ঘটনারও প্রমাণ মেলে। এসব ঘটনায় তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কাার করেন।‘

বহিষ্কৃত হয়ে কীভাবে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আতিকুর, এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি একরামুল। তবে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাইদুল ইসলাম কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। 

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তারা সবে মাত্র  দায়িত্ব নিয়েছেন। সংগঠন পরিচালনায় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা মাধ্যমে দিকনির্দেশনা নিচ্ছেন তারা। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে যেসব যোগ্যতার কথা বলা আছে গঠনতন্ত্রে,  সেভাবেই সংগঠন পরিচালনা করা হবে।

এ ছাড়া সংগঠনে ইতোমধ্যে যেসব গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ হয়েছে তা সমাধানের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে আবার আদর্শিক ধারায় ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানান আল নাহিয়ান।

নানা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আতিকুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, মাদকসংশ্লিষ্টতা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি শোভন ও রাব্বানীকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত থেকে সরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয় আল নাহিয়ান জয়কে এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় লেখক ভটাচার্যকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here